শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার সামন্তসার মাধ্যমিক বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষার্থী কয়েকজন ছাত্রী বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির ও বিভিন্ন কু-প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলামের নিকট ১৯ জানুয়ারি রবিবার একটি লিখিত দরখাস্ত প্রদান করে।

বিদ্যালয় লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে জানা যায় দীর্ঘদিন যাবত বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের কাছে তার বাসায় ছাত্রীরা ইংরেজি প্রাইভেট পড়তে গেলে ছাত্রীদের সঙ্গে বিভিন্ন অশ্লীল আচরণ করে এবং বিভিন্ন অঙ্গ ভঙ্গির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দেয় বলে জানায় ওই ভুক্তভোগী ছাত্রীরা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলাম ২০ জানুয়ারির সোমবার বিষয়টি স্বীকার করে জানান আমার কাছে একটি অভিযোগ এসেছে সহকারী প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে এবং আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ১৯ জানুয়ারি বিকাল তিনটায় টিচার্স কাউন্সিলের মিটিং আলোচনা সাপেক্ষে সহকারী প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানকে সকল ক্লাস বর্জন ও সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। তিনি এখন সাময়িকভাবে বরখাস্ত হিসেবে আছেন। বিষয়টি আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কে জানিয়েছি পরবর্তীতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ও ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে দোষী হলে কঠোর শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি তাকে বিদ্যালয় থেকে বরখাস্তসহ তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে সুষ্ঠু বিচার যেন করা হয়

সহকারী প্রধান শিক্ষক মাহাবুবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন এবং তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শিক্ষকদের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান বিষয়টি খুবই অপ্রীতিকর এবং লজ্জাজনক এটা একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য মানহানিকর বিষয়। কিন্তু আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই এবং এ ধরনের ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না ঘটতে পারে তার জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাব্বির সাজ্জাদ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অবগত আছেন কিন্তু তার কাছে কোন লিখিত অভিযোগ এখনো আসেনি আসলে তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। বিষয়টা নিয়ে বিদ্যালয়ের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং আশপাশের এলাকায় ছাত্রছাত্রীরা এ বিষয়ে হতাশ বলে জানা গেছে।