রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং, ১২ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ই সফর, ১৪৪২ হিজরী
রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

জন্মশতবর্ষ

জন্মশতবর্ষ

জন্মশতবর্ষ
          এ এইচ নান্নু

বঙ্গ বন্ধু বিসাল সিন্ধু রাজনৈতিক সাগর
তুমি কাঁদিয়েছ তোমাকে দেখেনাই যারা
কেঁদেছিল সাড়ে সাত কোটি বাঙালী-
প্রজন্ম কাঁদে আজও দেখার আশায়।
ইতিহাসে দেখা যায় মুজিবের তর্জনী
ভাষনে তার দুনিয়াজোড়া রয়েছে প্রমাণ
অলৌকিক দেশত্বপ্রেম মৃত্যুর ভয় ছিলনা
স্বপরিবার মৃত্যু জলন্ত প্রমান কে জানেনা!
শতবর্ষ আগে জন্ম গোপালগঞ্জ টুঙ্গিপাড়া
সেই ছেলেই বঙ্গবন্ধু, জাতির জনক, রাষ্ট্রপতি
হাজার বছরের স্রেষ্ঠ বাঙালী, শ্রেষ্ঠ সন্তান,
স্থপতি, বিশ^ বাংলা পরিচিতি দানকারী নেতা
রাজনৈতিক কবি, বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর মুজিব।
রেসকোর্স ময়দানে বিশ্বকাঁপানো বক্তব্যে-
মাতাল হয়েছিল বাংলার আপামর জনতা,
নারী-পুরুষ সকলে স্লোগানে মুখরিত ছিল
এক জাতির এক নেতা বাঙালী জাতির পিতা।
মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধীনায়ক মহান নেতা মুজিব
যে খোকার জন্ম না হলে বাংলাদেশ পেতাম না
বাংলা ভাষায় বাক্ স্বাধীনতা পেতাম না,
চাকুরীতে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা হতে পারতাম না।
আজ বাংলাদেশ নামে মানচিত্র পেয়েছি
পেয়েছি মায়ের ভাষায় সাংস্কৃতির অধীকার
মা, মাটি, দেশ আমাদের বাংলাদেশ সবুজে-
সবুজে ভরা ছায়াঘেরা নদীমাতৃক দেশ।
সকালের সুর্যের মতো তোমাকে দেখি আজ
আজীবন দেখব লাল সবুজ বৃত্তের মাঝে,
তোমার হাসির ছোয়ায় রক্তমাখা মুখ
একগুচ্ছ রক্তাভ সরিয়ে দেখব হাসির ঝলক।
জিয়া, রসিদ, মোস্তাক, ফারুক আমার ছেলে-
আমি বিশ^াস করি ওরা আমাকে মারবে না,
লন্ডনস্থ আড্ডা চলা মুহুর্তে বলেছিলেন-
পাকিস্থানী ছক্ বিয়োগ ওরা মারবে কেন!
গভির বিস্বাশ আর নিরাপত্তারক্ষী দুর্বলতা,
যারা উচ্চশিখরে আহরণ করেছে তাদের-
জীবনপথ নাটকিয়তায় ভরা, মুজিব তাই;
অকুতোভয়, রাজনৈতিক বীর, বিশ্ব নেতা।
নয়মাস যুদ্ধ, ত্রিশ লাখ শহীদি রক্ত বিনা-
স্বাধীনতা, বাংলাদেশ, মানচিত্র, পতাকা –
আশা করা, মিক্চার বাঙালীর ভালবাসা,
তাদের মুখে ভাষা উচ্চারন অবৈধ প্রেম।
ঘাতকদের মুখে বাংলা ভাষা শোভে না
যেমন এজিদী ইসলাম “আবুল হাকামের”
আর মুহাম্মদী ইসলাম “রাসুল স.” এর,
আজ আমরা এজিদী ইসলাম পালন করি
মুহাম্মদী অনুগত ঈমানিকে বলি বেদা’তি।
রাজাকার, আলবদর, আলসামস্ তারা-
দেশের শাসনভার নিতে চায় তাদের হাতে,
এজিদের শাসনকার্য্য নব্বই বছর তেমনী
পচাত্তুর পরবর্তী মুছতে চায় মুজিবের নাম।
গনতন্ত্র হত্যা করে পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুকে-
স্বপরিবারে হত্যা এক জঘন্যতম অধ্যায়,
ভুল কখনো ফুল হয়ে ফোটেনা নিতীকথা;
মুজিব এখনো বলে-আমার সোনার বাংলা।
হাসিনা, রেহানাকে জীবিত রাখা ভুল হয়েছে
ঘাতকদের জানা ছিলনা, বঙ্গবন্ধু শেখ-
মুজিব পরিবারের সদস্য সংখ্যা, এখানেও-
ঘাতকদের মাষ্টারপ্ল্যানে ভুল চাল্।
মুজিব, জামাল, কামালকে হত্যা বেদনীয়
কিন্তু ছোট শিশু রাসেলকে হত্যা ভুলের-
মাসুল দেওয়ারও সুযোগ দেয়নি বিধাতা
কারন: শেখ হাসিনা, রেহানা জীবিত সর্বস্ব।
অসাম্প্রদায়িক জাতি গড়ার অঙ্গীকার,
হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলিম এক সুঁতোয়-
গেঁথে বাংলাদেশকে সবুজ শ্যামল দেশ
আর তৈরী করেছিলেন স্বপ্নময় বাংলা।
উন্নয়নের আশা ছিল বুকের পাটায় শক্তি
চেয়েছিলেন গরিব দুঃখী মানুষের মুক্তি
জেল জুলুম ছিল তার নিত্যদিনের সঙ্গী
দেশপ্রেমী নেতা মুজিব ইতিহাসে বিরল।
মুলত শেখ মুজিব সকল নেতাকে প্রেরনা-
দিয়ে রাজনিতীর সুযোগ সৃষ্টি করেছেন,
জাতীয় চার নেতাসহ মুজিবভক্ত ছিলেন –
তৃণমুলের আনাচ কানাচে সকল নেত্রীবৃন্দ।
পশ্চিমা শোষন থেকে মুক্ত করেছেন জাতিকে
সাতচল্লিশ পরবর্তী শুরু বাঙালী নিপিড়ন
আমি কে…? তুমি কে..? বাঙালী…বাঙালী-
স্লোগান দিয়ে যুদ্ধের প্রাক সূচনা হয়।
বায়ান্নর ভাষা অধীকার আদায়কারী মুজিব
সাতচল্লিশ পেরিয়ে উনসত্তুরে গণঅদ্ভুথান-
সত্তুরের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠ
একাত্তরের ছাব্বিশে মার্চ স্বাধীনতা অর্জন,
ষোল’ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনে মুজিব।
পদ্মাসেতুর স্বপ্ন দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু
সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত করে যাচ্ছেন হাসিনা,
পল্লীউন্নয়ন,বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার-
করে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা হাসিনা সরকার।
জাতীয় সম্পদ হারিয়ে কাঁদে বাঙালী আজ
ফিরে এসো খোকা, জেগে ওঠো মুজিব,
অপেক্ষায় আছি আমরা ষোলকোটি মানুষ
ভুলিতে পারিনা ভুলবনা আমরা বাঙালী।
কামার-কুমার, জেঁলে, তাঁতি মেহনতি মানুষ-
আমাদের মুখে হাসি দেখার জন্য যুূদ্ধ,
আমরা তোমার সাথে বেঈমানি করছি বলে-
সরে আছ দুরে…..! অনেক দুরে……!!
বাংলা, বাঙালী তোমার হৃদয়ে আছে
“সাগর স্রোতহীন হয়ে যেতে পারে,
শরীরের রক্ত সুকিয়ে যেতে পারে
পৃথীবী অন্ধকার হয়ে আসতে পারে
তোমাকে আমরা কোনদিন ভুলতে পারবনা”!