সোমবার, ৮ই আগস্ট, ২০২২ ইং, ২৪শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১০ই মুহাররম, ১৪৪৪ হিজরী
সোমবার, ৮ই আগস্ট, ২০২২ ইং

মোটরসাইকেল যাত্রীদের দূর্ভোগ, জাজিরা টোল ঘরের সামনেই ট্রাকে মোটরসাইকেল তুলেছেন

মোটরসাইকেল যাত্রীদের দূর্ভোগ, জাজিরা টোল ঘরের সামনেই ট্রাকে মোটরসাইকেল তুলেছেন

স্বপের পদ্মা সেতু চালুর দিন রাতে সেতুতে মোটরসাইকেল দূর্ঘটনায় দুই যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করে সেতু কর্তৃপক্ষ। এতে বিপাকে পড়ে মোটরসাইকেল যাত্রীরা। তারা সেতু দিয়ে যেতে না পেরে মোটরসাইকেল নিয়ে ভীর জমায় জাজিরার মঙ্গল মাঝির ঘাটে। ফেরী চলাচল না করায় সেখানে গিয়ও নিরাশ হন তারা। ফিরে যেতে হয় তাদের।

সকাল ১০ টায় মাওয়া ঘাট থেকে একমাত্র কুঞ্জলতা নামে একটি ফেরী মঙ্গল মাঝির ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসেন। ফেরীটি মাঝ পদ্মার চরে আটকে পড়ে। পরে দুপুর ৩টার দিকে ফেরিটি মঙ্গল মাঝির ঘাটে আসতে সক্ষম হয়। ফেরীটি সাড়ে ৩টার দিকে ৫০টি মোটরসাইকেল নিয়ে আবার মাওয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যান। ফেরী চলাচলের খবর পেয়ে মোটরসাইকেল যাত্রীরা আবার ঘাটে আসতে শুরু করেন। কিন্ত আবার কখন ফেরী আসবে এবং যাবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই।

শিবচরের যুবক রিফাত ব্যবসা করেন ঢাকায়। সকাল ১০ টার দিকে মোটরসাইকেল নিয়ে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে মঙ্গল মাঝির ঘাটে আসেন। এসে শুনতে পান পেরী চলেনা। নিরুপায় হয়ে তিনি ফিরে যান। ফেরী আসার খবর শুনে শিবচর থেকে তিনি ৪টার দিকে আবার ঘাটে আসেন। এসে শুনেন ফেরী আধাঘন্টা আগে ছেড়ে চলে গেছে।

রিফাত বলেন, আমি ঢাকায় ব্যবসা করি। জরুরী ঢাকা যাওয়া দরকার। পদ্মা সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচল নিষেধ করায় আমি ঢাকা যেতে পারছিনা। আমি বিপদে আছি।

এদিকে বিকাল দিকে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজার কিছু দূরে মিনি ট্রাক ও পিক-আপে করে মোটরসাইকেল পাড় করছেন যাত্রীরা। এতে তাদের পাঁচশত টাকা করে গুতে হচ্ছে। তবে সকালের দিকে ট্রাক ও পিক-আপে করে মোটরসাইকেল পাড় করতে পারেনি যাত্রীরা। সেতু কর্তৃপক্ষ টোল প্লাজা থেকে মোটরসাইকেল বোঝাই ট্রাক ও পিক-আপ ফিরিয়ে দিয়েছে বলে জানান করেনজন মোটরসাইকেল যাত্রী।

এদিকে পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা মঙ্গল মাঝিরঘাট প্রায় জনশুন্য হয়ে পড়েছে। নেই চিরচেনা সেই যানবাহন ও যাত্রীদের ভির। নেই কোন কোলাহল ও হাকডাক। দু-একটি ফেরী, লঞ্চ, স্পিডবোট সার্ভিস চালু রাখলেও নেই যাত্রীদের চাপ। অনেকক্ষণ পর পর একটি দুটি মোটরসাইকেল ঘাটে আসতে দেখা গেছে। সাড়ে ৩টার দিকে একমাত্র কুঞ্জলতা নামে একটি ফেরী ৫০টির মতো মোটরসাইকেল নিয়ে মাওয়া থঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। এছাড়া আর কোন ফেরী এ ঘাট থেকে ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি। তবে সারা দিনে ১০টি মতো লঞ্চ ৫০ থেকে ৭০ জন যাত্রী নিয়ে এপাড় ওপাড় যাতায়াত করতে দেখা গেছে। সারা ১৫ থেকে ২০টির মুখ স্পিডবোট ১০ থেকে ১২ জন করে যাত্রী নিয়ে পাড়াপাড় করেছে বলে ঘাট সূত্রে জানা গেছে।

মঙ্গল মাঝি ঘাটের ইনচার্জ ও লঞ্চ মালিক মোকলেছ মাদবর বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় এ ঘাটে যাত্রী নেই বললেই চলে। দেড় দুই ঘন্টা পর পর ৫০ থেকে ৬০ জন যাত্রী নিয়ে লঞ্চ ছাড়তে হচ্ছে। এতে লঞ্চ মালিক ও ঘাটের দায়িত্বে থাকা লোকজনের পোষানো কষ্ট।এ পেশার সাথে প্রায় ১৫ হাজার পরিবার জড়িত। আমি সরকারের কাছে দাবী জানাই, লঞ্চ মালিক ও শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের।

জাজিরা প্রান্তের টোল ম্যানেজার মোঃ কামাল হোসেন বলে, ট্রাক বা পিকআপে মোটরসাইকেল বা যাত্রী পাড়াপাড়ের কোন নিয়ম নেই। আটকে পড়া মোটরসাইকেল ও যাত্রীদের বিবেচনায় নিয়ে সতর্কতার সাথে পাড়াপাড়ে সীমিত সময়ের জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে।


error: Content is protected !!