রবিবার, ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ ইং, ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৪ই রবিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী
রবিবার, ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

শরীয়তপুর সরকারি খাল দখলের অভিযোগ : দখলের কথা অস্বীকার করলেন অভিযুক্ত ব্যক্তি

শরীয়তপুর সরকারি খাল দখলের অভিযোগ : দখলের কথা অস্বীকার করলেন অভিযুক্ত ব্যক্তি

শরীয়তপুর সদর উপজেলার চররোসুন্ধি গ্রামের সরকারি খাল দখল করে পুকুর করার কথা অস্বীকার করলেন হাজী আনোয়ার হোসেন তালুকদারের ছেলে যুবদল নেতা নজরুল ইসলাম তালুকদার(৪০) ও স্থানীয় পুকুর মৎস্য চাষিরা। নজরুল তালুকদার বলেন, আমি আমার নিজস্ব জমিতে দীর্ঘ ১২ বছর যাবৎ সরকারি রাস্তার উত্তর পাশে একটি পুকুর(প্রজেক্ট) খনন করে মাছ চাষ করছি। আমার মতো চররোসুন্ধি গ্রামের প্রতিটি বাড়ির রাস্তার পাশে প্রায় ২০টি ছোট বড় পুকুর আছে। এ রাস্তার পাশে পূর্বে কোন খাল ছিল না এবং এখনো নেই। তবে নজরুল তালুকদার বলেছেন সরকারি হালটের যে স্থানে ১২ ফুট পাকা রাস্তাটি হয়েছে তার উত্তর পাশে অল্প কিছু হালটের সরকারি জমি অবশিষ্ট আছে। যদি কখনো রাস্তা প্রশস্থ হয়, তাহলে রাস্তার হালটের জমি গ্রামবাসি রাস্তার জন্য ছেড়ে দিবে।

চররোসুন্ধি গ্রামের হাবিবুর রহমান সরদার, আ: সালাম মাদবর, মো: মজিবর রহমান হাওলাদার, হাচান মাদবর ও শফিকুল ইসলাম রাসেল বলেন, আমরা কোনদিন এ রাস্তার পাশে খাল দেখিনি। যারা খালের কথা অভিযোগ করেছে, তারা ভূল বলছে। এরপর তারা রাস্তার পাশের পুরোনো ২০টি পুকুর দেখিয়ে খালের কথা অস্বীকার করেন।

অভিযোগকারী স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী মিজানুর রহমান ঢালী, কাইয়ুম ঢালী, আব্দুল কাদের ঢালী ও আজিবুর তালুকদার সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার চররোসুন্ধি গ্রামের নজরুল ইসলাম তালুকদার তালুকদারের ব্রীজ হইতে সরকারি খাল ও হালট ৩০০ ফুট পর্যন্ত দখল করিয়া ভেকু মেশিন দ্বারা মাটি খনন করিয়া মৎস্য খামার তৈরী করিয়াছে। যা ১০৪ নং চররোসুন্ধি মৌজার ১৬০৫ নং খতিয়ানে ৭৮৭ নং দাগ, ১৬৮৬ নং খতিয়ানে ৭৮৮নং দাগ, ৪১০ নং খতিয়ানে ৭৯০, ৭৯১ ও ৭৯২ নং দাগ এবং ১৬০৯ নং খতিয়ানে ৭৮৮ নং দাগভুক্ত। উক্ত খালের মুখ বন্ধ করে মাছ চাষ করায় স্থানীয় কৃষকরা পড়েছে বিপাকে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সেখানে স্থানীয় পাট চাষী সহজেই তাদের উৎপাদিত পাট জাগ দেওয়ার কাজে ব্যবহার করে আসছিল। কিন্তু বর্ষা আসার আগেই জেলা যুবদল নেতা নজরুল ইসলাম তালুকদার সেই খালে মাছ চাষ করার জন্য মাটি দিয়ে বাঁধ দেয়। এতে স্থানীয় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাট জাগ দিতে না পারায় ও শুকনা মৌসুমে কিভাবে আলু চাষ করতে গিয়ে পানি সেচ দিবেন এজন্য চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। এলাকাবাসী এই খালে বাঁধ দিতে বাধা দিতে গেলে তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেওয়ায় ভয়ে কেউ মুখ খুলছে না। এ জন্য খালটি উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষে মো: ফজলুল হক পেদার নামে উপজেলা প্রশাসন ও সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত আবেদন পাওয়া যায়।

লিখিত আবেদনের বিষয়ে মো: ফজলুল হক পেদাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমি ভূমি অফিসে কোন ধরনের অভিযোগ করিনি। আমার নাম ব্যবহার করে কেউ হয়তো বা অভিযোগ করতে পারে। বরং আমি আমার জমি নজরুল ইসলাম তালুকদারের নিকট বিক্রি করে দিয়েছি।

এ বিষয়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মাহাবুর রহমান শেখ জানান, যদি কেউ অবৈধভাবে খাল দখল করে মাছ চাষ করে তা হলে তদন্ত করে স্থানীয়দের দেওয়া অভিযোগের সত্যতা মিললে অচিরেই খালটি জনসাধারনের স্বার্থে উন্মুক্ত করার জন্য সবধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।