রবিবার, ৩১শে মে, ২০২০ ইং, ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৭ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী
রবিবার, ৩১শে মে, ২০২০ ইং

জাজিরা নাওডোবায় বাজারের গলি দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ

জাজিরা নাওডোবায় বাজারের গলি দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা বাজারের গলি দখল করে দোকান ঘর নির্মানের অভিযোগ উঠেছে। আবু জাফর (ঠান্ডু চোকদার) নামে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে এই দোকান ঘর নির্মাণ করছেন। গলি দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ হলে বাজারের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ি সমিতির নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয় ও বাজারের ব্যবসায়ী সূত্র জানায়, নাওডোবা বাজারের সাবেক মাছ বাজার গলি বর্তমানে হাঁস-মুরগী-কবুতরের বাজারে পরিণত হয়েছে। সপ্তাহের প্রতি শুক্র ও শনিবার এই বাজারে হাট বসে। বাজারের সেই গলিটি ঠান্ডু চোকদার ও গোলাম চোকদার নামে দুই ব্যক্তি দখল করে পাঁকা দোকান ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন। সংবাদ পেয়ে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি অফিসার (তহশিলদার) রাসেদুল হাসান ঘটনাস্থলে গিয়ে সাময়িক ভাবে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন এবং রবিবার জমির কাগজপত্র নিয়ে ঠান্ডু চোকদারকে তহশিল অফিসে আসতে বলেন। ঠান্ডু চোকদার তহশিলদারের কোন কথা না রেখে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ কালে তারা জানায়, বাজারের এই গলিতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ঠান্ডু চোকদার ও গোলাম চোকদার গলির দুই পাশ থেকে দখল করে বহুতল পাঁক স্থাপনা নির্মাণ করছে। এই ভাবে চলতে থাকলে বাজারের এই গলি বন্ধ হয়ে যাবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে ব্যবসায়ীরা পথে বসে যাবে।
বাজার কমিটির সভাপতি আ. কাদের হাওলাদার বলেন, বাজারের গলি বন্ধ করে স্থাপনা নির্মানের সংবাদ পেয়ে তহশিলদার আসে। দখলদারদের ডেকে আমার সামনেই তহশিলদার নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে বলেছে। রবিবার জমির কাগজপত্র দেখে তহশিলদার সিদ্ধান্ত দিবে। ঠান্ডু চোকদার তহশিলদারের কথা অমান্য করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। জমির মালিক যদি ঠান্ডু চোদার হবে তাহলে সরকারী অর্থায়নে যখন গলিতে ইটের সলিং করা হয় তখন বাঁধা দেয়নি কেন।
অভিযুক্ত ঠান্ডু চোকদার বলেন, বাজার পেরিফেরী করা হয়েছে। পেরিফেরীর বাইরে আমাদের জমি। বাজার প্রশারিত হওয়ায় আমাদের রেকর্ডিয় জমিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছি। কিভাবে ভবন নির্মাণ করলে বাজার ও ব্যবসায়ীদের উন্নয়ন হতে সেই বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করছি। যেহেতু জমি আমাদের নামে রেকর্ড সেহেতু তহশিলদারের কথায় নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার প্রশ্নই উঠে না। তহশিলদারের কোন কাগজ থাকলে তা নিয়ে যেন আমার কাছে আসে।
ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রাসেদুল হাসান বলেন, জনবহুল নাওডোবা বাজারের হাঁস-মুরগীর বিক্রয়ের গলি দখল করে পাঁকা স্থাপনা নির্মানের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। নির্মাণ কর্তাকে ডেকে কাজ বন্ধ রাখতে বলি এবং জমির কাগজপত্র নিয়ে অফিসে আবতে বলি। যেহেতু সে নির্মাণ কাজ বন্ধ করেনি সেহেতু উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। বাজারের গলির সাথে ব্যবসায়ী-ক্রেতা-বিক্রেতাসহ জনস্বার্থ জড়িত। ব্যক্তি স্বার্থে বাজারের গলি দখল বা বন্ধ করার সুযোগ নাই।