মঙ্গলবার, ৫ই জুলাই, ২০২২ ইং, ২১শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৫ই জিলহজ্জ, ১৪৪৩ হিজরী
মঙ্গলবার, ৫ই জুলাই, ২০২২ ইং

শরীয়তপুর চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন আহত

শরীয়তপুর চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন আহত

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বড় গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী ক্যাম্প, মসজিদ, বাড়ি ঘরে হামলা-ভাংচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

রোববার (১২জুন) সন্ধ্যা সাড়ে রাত আনুমানিক ৮ টার সময় বড় গোপালপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চেয়ারম্যান প্রর্থী মাহবুবুর রহমান লিটু সরদার ও চেয়ারম্যান প্রর্থী কেএম জামিল হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফের সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কেএম জামিল হোসেন বলেন, লিটু সরদার ও বাবুল আকনের নেতৃত্বে শতাধিক লোকজন বোমা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার বাড়ি, নির্বাচনী অফিস, আমার সমর্থক সাবেক এমপি মজিবুর মাস্টারের বাড়ি, নান্নু মাদবরের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করেছে। তারা বাড়িঘর ও আমাদের লোকজনকে লক্ষ্য করে শতাধিক বোমা হামলা ও গুলি করে। তাদের হাত থেকে মসজিদও রেহাই পায়নি। তারা মসজিদেও হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছেন। এ ঘটনায় আমার আটজন সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছে। আমি যাতে নির্বাচন থেকে সরে যাই এবং নির্বাচন করতে না পারি সেই উদ্দেশ্যেই তারা আমাদের ওপর এই হামলা চালিয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আমি আশংকার মধ্যে আছি। এ ঘটনায় আমি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

মাহবুবুর রহমান লিটু সরদার বলেন, জামিল কবিরাজ আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদের কোন লোকজন হামলার সাথে জড়িত নয়। উল্টো জামিল কবিরাজ ও তার সমর্থক নান্নু মাদবর লোকজন নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। রোববার বিকেলে আমি ও বাবুল আকন সহ আমার কয়েকজন সমর্থক তিন নম্বর কেন্দ্র টেকের কান্দী খান বাড়িতে ভোট চাইতে গেলে জামিল কবিরাজ তার লোকজন নিয়ে এসে আমাদের ভোট চাইতে বাঁধা দেয়। আমরা সেখান থেকে চলে আসার সময় তারা পেছন থেকে আমাদের ওপর হামলা করে। পরে তারা টেম্পু স্ট্যান্ডে এসে আমার লোকজনের ওপর হামলা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। তারা আমাদের ওপর শতাধিক বোমা ও গুলি ছোড়ে। এতে আমার পাঁচ জন সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আমি এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় গোপালপুর ইউনিয়নে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


error: Content is protected !!