শনিবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং, ২৫শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
শনিবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং

জাজিরার ৫০ বিঘা জমির ধান ও ৪ শত বিঘা জমির ঘাস পুড়ে ছাই

জাজিরার ৫০ বিঘা জমির ধান ও ৪ শত বিঘা জমির ঘাস পুড়ে ছাই

শরীয়তপুরের জাজিরার কুন্ডেরচর ইউনিয়নের চিটারচর এলাকার বাতিরচরে দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে প্রায় ৫০ বিঘা জমির ধান ও চারশত বিঘা জমির বিক্রয়যোগ্য ঘাস পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

এতে প্রায় দশ লক্ষ টাকা ক্ষয়ক্ষতি সাধনের ফলে ভুক্তভোগী মোস্তফা খান(৪৬) সহ প্রায় ৩০জন কৃষকের ফসলী জমি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোস্তফা খান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তৃত ফসলী জমি পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে পড়ে আছে। স্থানীয় লোকজন ভীড় করেছে পুড়ে যাওয়া ক্ষেত ও ক্ষতিগ্রস্তদের আহাজারির পাশাপাশি এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি দেখার জন্য। যার ফলে ব্যাপক লোকসমাগম লক্ষ্য করা গেছে এলাকাটিতে। এছাড়া এক ধরনের চাপা ক্ষোভও পরিলক্ষিত হয় স্থানীয়দের মধ্যে।

এদিকে খবর পেয়ে ঘটনা পর্যবেক্ষণ করার জন্য পদ্মানদী পার হয়ে ঘটনাস্থলে যান, জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ কামরুল হাসান সোহেল, জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জামাল হোসাইন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নজরুল ইসলাম ও কুন্ডেরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন বেপারিসহ জাজিরা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ।

ভুক্তভোগী কৃষক মোস্তফা খান জানান, তিনি চুক্তিতে এই জমির ফসল কিনেছিলেন। কিন্তু পূর্ব শত্রুতার জেরে এই ঘটনা ঘটালো কিছু দুষ্কৃতকারী। যার ফলে তার এখন পথে বসার যোগাড় হয়েছে। বহু দায়-দেনা করে তিনি এখানে ধান ও ঘাস ক্রয় করেছিলেন প্রায় ৪ লক্ষ টাকা দিয়ে। যা প্রায় ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা বিক্রয় করা সম্ভব ছিলো।

কুন্ডেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন বেপারি জানান, এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক একটি ঘটনা। যা কিছুই হোক না কেনো, এই ধরনের আক্রমণ কোনভাবেই কাম্য নয়। আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়েছি এবং আমি চাই প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে যথাযথ বিচার করা হোক।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জামাল হোসাইন বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। যেহেতু অগ্নিসংযোগকারী একটি ক্রাইম করেছে, তাই পুলিশ প্রশাসন তা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে আমরা আমাদের সাধ্য অনুযায়ী প্রদর্শনী বা অনুদান দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাড়াবো।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আমরা ঘটনাটি খতিয়ে দেখছি। ইতিমধ্যে আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ বিভিন্নজনের সাথে কথা বলেছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ কামরুল হাসান সোহেল জানান, আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদ্মার চরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরকে নির্দেশনা দিয়েছি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের আমাদের জাজিরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।


error: Content is protected !!