বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, ১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১১ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ ইং
বিষয়টি কিশোরী পরিবারের কাউকে জানায়নি

শরীয়তপুরে ১৩ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ, ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

শরীয়তপুরে ১৩ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ, ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় ধর্ষণের শিকার তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী (১৩) অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। পরিবারের অভিযোগ, কয়েক মাস আগে এক লম্পট ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সে পরিবারের কাউকে জানায়নি। সম্প্রতি শারীরিক পরিবর্তন দেখে তাকে স্থানীয় একজন চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। পরীক্ষা করে দেখা যায় সে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

এ ঘটনায় গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে ছাত্রীটির মা বাদী হয়ে শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানায় মামলা করেছেন। এতে মো. সালামত সরদার নামের এক লম্পট ব্যাক্তিকে আসামি করা হয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ওই ছাত্রীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

এজাহার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই ছাত্রী সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের একটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। ওই ছাত্রীর বাড়ি জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের লাউখোলা এলাকায়। এক বছর আগে নানা বাড়ি রুদ্রকর ইউনিয়নের মাকসাহার আসে। মেয়েটি নানা বাড়িতে থেকে পড়ালেখা করে। গত ৭ মার্চ রাতে ঘরের বাহিরে প্রস্রাব করতে গেলে ওই ছাত্রীকে স্থানীয় মৃত মন্নান সরদারের ছেলে মো. সালামত সরদার ধর্ষণ করে। এর পর থেকে বেশ কয়েকবার ওই ছাত্রীকে ফুসলিয়ে ধর্ষণ করে সালামত।

গত ৮ সেপ্টেম্বর ছাত্রীটির শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চান তার মা। পরে ছাত্রীটি সব ঘটনা মায়ের কাছে খুলে বলে। ছাত্রীটির মা সোমবার রাতে পালং মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সালামত সরদারকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে সালামত।

ছাত্রীটির মা বলেন, বিষয়টি নিয়ে যাতে আমরা বাড়াবাড়ি না করি, সে জন্য ওই লম্পট সালামত আমাকে ও আমার মেয়েকে হুমকি দিয়েছে। বাধ্য হয়ে থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছি। এতটুকু মেয়ের যে সর্বনাশ করেছে, আমি তার বিচার চাই।

সালামত সরদারের স্ত্রী মাকসুদা বেগম বলেন, আমার স্বামী নির্দোষ। আমার স্বামীকে ফাঁসানো হয়েছে। তবুও যদি আমার স্বামী ওই কাজ করে থাকে তার শাস্তি হোক।

পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, স্কুলছাত্রীর পরিবারের কাছ থেকে জেনেছি মেয়েটি ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তবে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য তাকে সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছি। রিপোর্ট হাতে পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।