বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, ১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১১ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ ইং
জেলা কমিউনিটি পুলিশের উদ্যোগে

শরীয়তপুরে ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ ও অবৈধ মাদক নির্মূল উপলক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা সভা

শরীয়তপুরে ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ ও অবৈধ মাদক নির্মূল উপলক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা সভা

শরীয়তপুর জেলা কমিউনিটি পুলিশের উদ্যোগে ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ ও অবৈধ মাদক নির্মূল উপলক্ষ্যে সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নে আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫ টার দিকে রুদ্রকর কমিউনিটি পুলিশিং-এর আয়োজনে ও পালং মডেল থানা পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) মো: আশরাফুল ইসলামের পরিচালনায় এ আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন শরীয়তপুর জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন ও অপরাধ) মোহাম্মদ আল-মামুন শিকদার।

কমিউনিটি পুলিশের রুদ্রকর ইউনিয়নের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আহম্মেদ সরদারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, শরীয়তপুর জেলা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব নুর মোহাম্মদ কোতোয়াল, জেলা কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আলমগীর হোসেন মুন্সী, পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলামউদ্দিন, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, রুদ্রকর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ঢালী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক, সমাজসেবক, সাংবাদিক, পুলিশ, কমিউনিটি পুলিশের সদস্যবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল-মামুন শিকদার বলেন, আমাদের দেশে যত ধরনের অন্যায়-অপরাধ সৃষ্টি হচ্ছে, তার মূলে রয়েছে মাদক। মাদক থেকে আমাদের বাঁচতে হলে সকলকে সচেতন হতে হবে। শরীরে ক্ষুধা লাগলে যেমন অনুভব হয়, এমনি মাদকসেবীরা সময়মতো মাদক সেবন না করতে পারলে তাদের শরীরে একটা বিশেষ অনুভব হয়, তখন সে কোন অন্যায়কেই পরোয়া করে না। মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীরা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তা সমাজ থেকে দূরীভূত করা জরুরি। এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

বাল্যবিবাহ বিষয়ে বলতে গিয়ে এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমাদের সমাজের ছেলেমেয়েরা একটু বড় হলেই একে অপরে প্রেম করে থাকে ও অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে, যার কারণে অধিকাংশ বাল্যবিবাহ সংঘটিত হয়। এ ব্যাপারে আমাদের পরিবারের সকলকে ও শিক্ষকদের ভালোভাবে নজরদারি রাখতে হবে। তাহলে বাল্যবিবাহ রোধ হবে।

ইভটিজিং-এর বিষয়ে মেয়েদের উদ্দেশ্যে এ কর্মকর্তা বলেন, যদি তোমরা কোন ছেলেকে ইভটিজিং করতে দেখো সাথে সাথে প্রতিহত করার চেষ্টা করবে। সাহস নিয়ে প্রতিবাদ করবে, প্রতিহত করবে, তাহলে দেখবে তোমাদের কোন বখাটে ছেলে উত্ত্যক্ত করতে পারবে না। প্রয়োজনে পুলিশকে জানাবে অথবা শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাবে।

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে আব্দুল মোমেন বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। কারণ, এটা একটা আন্তর্জাতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার আপনার ছেলে-মেয়েরা যদি দেখেন হঠাৎ তাদের কথাবার্তায়, চলাফেরায় পরিবর্তন লক্ষ্য করেন, তাহলেই বুঝবেন সে কোন অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছে।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, আমরা সকলে যদি সচেতন হই তাহলে মাদক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন সম্ভব হবে।এদেশের সরকার ও প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। সকলে যদি সচেতন হয়, তাহলেই মাদক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ আন্দোলন সফলকাম হবে।