সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, ১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৮ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২০ ইং
আসন্ন শরীয়তপুর পৌরসভা নির্বাচন

শরীয়তপুর পৌরবাসীর নাগরিক চাহিদা পূরনে আশাবদী এমএম জাহাঙ্গীর

শরীয়তপুর পৌরবাসীর নাগরিক চাহিদা পূরনে আশাবদী এমএম জাহাঙ্গীর

শরীয়তপুর পৌরবাসীর নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন ও মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে আশাবাদী বলে জানিয়েছেন শরীয়তপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএম জাহাঙ্গী। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ও প্রধানমন্ত্রীর ভিশন বাস্তবায়নেও কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সৃজনশীল রাজনীতি চর্চা, মাদক-সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল করাসহ ডিজিটাল পদ্ধতিতে পৌরসভার সকল সেবা চালু করার ইচ্ছা রয়েছে তার। তাই তিনি শরীয়তপুর পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী হতে আগ্রহী।

এমএম জাহাঙ্গীর শরীয়তপুর পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড কাগদি গ্রামের সম্ভ্রান্ত মৃধা পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতা মরহুম হাতেম আলী মৃধা ছিলেন একজন সরকারী চাকুরিজীবী। এমএম জাহাঙ্গীর পালং তুলাসার গুরুদাস সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮২ সালে মাধ্যমিক, শরীয়তপুর সরকারী কলেজ থেকে ১৯৮৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিক এবং মাদারীপুর সরকারী নাজিম উদ্দিন বিশ^বিদ্যালয় কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রী অর্জণ করেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ইসলামিক শিক্ষা বিষয়ে স্নতকত্তোর শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে সূর্য সেন হলে অবস্থান করেন। পিতার মৃত্যু পরবর্তী সময়ে পারিবারিক সমস্যার কারনে তিনি নিজ গ্রামে ফিরে আসেন।

তিনি ১৯৮১ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত জাতীয় ছাত্রলীগ কমিটি শরীয়তপুর সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ও ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ পর্যন্ত জাতীয় ছাত্রলীগ কমিটির শরীয়তপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত জেলা আওয়ামী যুবলীগ কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০০৩ সালে তিনি জেলা আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহন করে ২০০৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ সালে তিনি জেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহন করে অদ্যবদি সেই কমিটি চলমান রয়েছে। জননন্দিত এই নেতা ২০১৯ সালের ৮ নভেম্বর থেকে শরীয়তপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। সুনামের সাথে তার উপর অর্পিত সকল দায়িত্ব তিনি পালন করায় সকল শ্রেণি পেশার মানুষের আস্তাভাজন হয়ে উঠেছেন। এছাড়াও তিনি জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক, জেলা রেড ক্রিসেন্ট কমিটির আজীবন সদস্য, জেলা প্রেস ক্লাবের প্রাক্তন সদস্য, শরীয়তপুর ফাজিল মাদ্রাসার দাতা সদস্য, পালং মধ্য বাজার জামে মসজিদ নির্মাণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক, এসডিএস এর প্রতিষ্ঠাকালিন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

আপনি শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হলে পৌরসাবীর জন্য কি কি করবেন? জবাবে এম.এম. জাহাঙ্গীর বলেন, সফল রাষ্ট্র নায়ক প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ, ২০৪১ সালে উন্নত দেশ ও উন্নত বিশে^র সাথে তাল মিলিয়ে ডেল্টাপ্লান বাস্তবায়নে কাজ করব। পৌরসভায় যে সকল অব্যবস্থাপনা রয়েছে তাও সমাধান করে পৌরবাসীকে একটি আধুনিক পৌরসভার সেবা প্রদান করব। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্মৃতি ধরে রাখতে পৌরসভায় একটি সংরক্ষণশালা ও বঙ্গবন্ধু কর্ণার নির্মাণ করব। শরীয়তপুর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কৃত্তিমান যারা রয়েছে তাদের লেখা সংরক্ষণ করব। পৌরবাসীর মৌলিক চাহিদা ও নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন করব। পৌরবাসীর জন্য একটা আধুনিক কবর স্থান ও শ্মশান তৈরী করব। পৌর এলাকায় বৃষ্টি-বর্ষা ও বন্যায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পরিকল্পনা করে জলাবদ্ধতা দূরীকরণে স্থায়ী সমাধান করব। জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কোন ভবন নাই। আমাদের এমপি মহোদয়ের সাথে আলোচনা করে শিল্পকলা একাডেমীর ভবন নির্মাণ ও আধুনিক শিল্পকলা একাডেমীর কার্যক্রম চালু করতে চেষ্টা করব। জীবন দিয়ে হলেও পৌর এলাকা থেকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিমূল করব।

পৌরসভা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সরদার ও দপ্তর সম্পাদক মো. আওলাদ হোসেন বলেন, এম.এম. জাহাঙ্গীর একজন রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। সে ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে। এক কথায় তিনি একজন আদর্শ নেতা। আমরা মনে করি তার হাতে শরীয়তপুর পৌরসভা নিরাপদ থাকবে। তিনি পৌরবাসীর চাহিদা পূরণ ও পৌরসভার উন্নয়ন করতে সক্ষম হবেন। সে যেন দলীয় মনোনয়ন পায় সেই জন্য নীতিনির্ধারকদের সুদৃষ্টি কামনা করব।

শরীয়তপুর পৌরসভার সকল শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানাগেছে, শরীয়তপুর পৌরসভা জন্য এজন সৎ, উদ্যোমী ও সৃজনশীল নেতৃত্বের প্রয়োজন। এমএম জাহাঙ্গীরের প্রতি তাদের আস্থা ও বিশ^াস রয়েছে। তিনি পৌর মেয়র হলে শরীয়তপুর পৌরসভায় উন্নয়ন ও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগবে বলেও তারা ধারণা করছেন।