রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম একযুগ পর মাস্টার্সের ফলাফল পেয়েছেন। বুধবার (২৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় প্রকাশিত ফলাফলে তিনি বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন এবং সিজিপিএ-৪ পেয়েছেন।

২০১৩ সালে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ও শিক্ষকদের অন্তর্কোন্দলের কারণে থিসিস জালিয়াতির অভিযোগ এনে তার ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছিল। স্নাতকে তিনি ছিলেন ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট। দীর্ঘ ১২ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তে তার ছাত্রত্ব পুনর্বহাল হয় এবং অপ্রকাশিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. হাসনাত কবীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এমএসসি (থিসিস গ্রুপ) পরীক্ষা ২০১২–২০১৩ এবং ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত হয়। ফলাফলে রফিকুল ইসলাম সিজিপিএ-৪ অর্জন করেছেন। এটি অস্থায়ীভাবে প্রকাশ করা হয়েছে এবং সিন্ডিকেটে অনুমোদনের পর কার্যকর হবে।

ফল প্রকাশের পর রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমার পরিবারের প্রথম প্রয়োজন ছিল একটি ভালো ক্যারিয়ার। কিন্তু রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে ছাত্রত্ব বাতিল হওয়ায় পরিবার বড় ধাক্কা খায়। আমি দীর্ঘদিন মানসিক যন্ত্রণায় ছিলাম। আজকের ফলাফল আমার জীবনের অন্যতম আনন্দঘন সংবাদ।”

তিনি জানান, অনার্সে প্রথম শ্রেণি অর্জন করলেও মাস্টার্সের জন্য কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেননি। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উইকেন্ড প্রোগ্রামে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন এবং সেখানেও সিজিপিএ-৪ পান। এরপর চীন ও সৌদি আরবে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন।

তার ফল প্রকাশে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন রাকসুর ভিপি ও শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “রফিকুল ইসলাম ভাইয়ের ওপর করা জুলুমের অবসান ঘটল আজ। অনার্সে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট, মাস্টার্সেও সিজিপিএ-৪। এত ভালো ফলাফল হয়েও ১২ বছর আটকে রাখা হয়েছিল।”

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩৬তম সিন্ডিকেট সভায় রফিকুল ইসলামের ছাত্রত্ব পুনর্বহাল ও ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়।