এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সোয়া ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে প্রধানমন্ত্রীর শপথ বাক্য পাঠ করান।
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রেক্ষাপটে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরলেন তিনি। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি এবং মিত্র দলসহ ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
শপথ অনুষ্ঠানের সূচি অনুযায়ী, আজ সকালেই তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে সংসদীয় দলের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ‘সংসদ নেতা’ নির্বাচিত হন। বিকেলে রাষ্ট্রপতি প্রথমে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ পড়ান, এরপর নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নবনিযুক্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।
শপথ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম মন্ত্রী এবং নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অন্তত ১ হাজার ২০০ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
শপথ গ্রহণের পর এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “এই বিজয় গণতন্ত্রকামী জনগণের বিজয়। আমরা একটি বিধ্বস্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা পুনর্গঠন এবং জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।”
উল্লেখ্য, আজ রাতেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করার কথা রয়েছে। আগামীকাল বুধবার সকালে সাভার স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সচিবালয়ে প্রথম অফিস করবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।

মন্তব্য করুন