শুক্রবার, ১২ই আগস্ট, ২০২২ ইং, ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৪ই মুহাররম, ১৪৪৪ হিজরী
শুক্রবার, ১২ই আগস্ট, ২০২২ ইং

কালকিনিতে সরকারি স্কুলে এক শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান

কালকিনিতে সরকারি স্কুলে এক শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ১৯৮নং আবদুল আজিজ মোল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক দিয়েই চলছে পাঠদান। বিদ্যালয়ের শিশু থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ৬টি ক্লাস একজন শিক্ষককেই সামলাতে হচ্ছে। শিক্ষার্থী রয়েছে মোট- ১২৪ জন। একটি ক্লাসে শিক্ষক গেলে অন্য ক্লাসগুলো ফাঁকা থাকে। এ কারনে বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম বিঘিœত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সকালে ওই স্কুলে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার দাবীতে বিদ্যালয় চত্বরে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
এলাকা ও সরেজমিন সুত্রে জানা গেছে, ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১ জন শিক্ষক দিয়েই জোড়াতালির মাধ্যমে চলছে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। প্রথম অধিবেশনে শিশু শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত ৩টি ক্লাস নেওয়া হয়। ওই শিক্ষক একটি ক্লাসে গেলে অন্য ক্লাস ফাঁকা থাকে। একইভাবে দ্বিতীয় অধিবেশনে তৃতীয় শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত তিনটি ক্লাস চলে। প্রতি সময় দুইটি করে ক্লাস শিক্ষকবিহীন থাকে। এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে শিক্ষক আবুল কালাম আজাদকে দিয়েই। তাও সে রয়েছে ডেপুটেশনে। বিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার দাবীতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, মোঃ হারুন হাওলাদার, নাসিমা আক্তার, এরশাদ হাওলাদার ও তুহিন প্রমুখ।
৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানায়, দ্বিতীয় অধিবেশনে তৃতীয় থেকে ৫ম শ্রেণি তিনটি ক্লাস একজন শিক্ষককেই নিতে হয়। অনেক সময় স্যার আমাদের পড়া দিয়ে আবার অন্য ক্লাসে চলে যায়। এ জন্য স্যার আমাদের পড়া ভালোভাবে আদায় করার আগেই ক্লাসের সময় চলে যায়। সামনে আমাদের পরীক্ষা, প্রস্তুতিও নেই তেমনটা। স্যার কম থাকায় অনেক ছাত্র অন্য বিদ্যালয়ে চলেও গেছে। শিক্ষক ঘাটতি থাকায় তাদের পড়া লেখার অনেক ক্ষতি হচ্ছে বলেও তারা জানায়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে একজন শিক্ষককেই শিশু থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাসগুলো নিতে হচ্ছে। ক্লাস চলাকালে দুইটি করে ক্লাস ফাঁকা থাকে। এ কারণে বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম বিঘিœত হচ্ছে। এবং শিক্ষকের ঘাটতি থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়া লেখার অনেক ক্ষতি হচ্ছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট থাকলেও শিক্ষা অফিস কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না। শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে নিয়েও পড়া লেখা করাচ্ছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, স্কুলটি নতুন হয়েছে। তাই সেখানে শিক্ষক নিয়োগের পদ সৃষ্টি হয় নাই। তবে শীর্ঘই পদ সৃষ্টি হবে। এবং সেখানে নতুন শিক্ষক দেয়া হবে।


error: Content is protected !!