ভোলার শিবপুর ও মেদুয়া ইউনিয়নে মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যেই বিস্তীর্ণ এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকরী দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবীতে বিক্ষুব্ধ জনতা ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘেরাওসহ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ সময় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও দৌলতখানের মেদুয়া ইউনিয়ন থেকে সহস্রাধিক লোক মিছিল নিয়ে ভোলা শহরের যুগীরঘোল এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস ঘেরাও করেন। এ সময় তারা অফিসের সামনে ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়ক ঘন্টাব্যাপী অবরোধে করে রাখেন। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেটের মধ্যে প্রবেশ করে তাদের দাবী আদায়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এসময় ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানযটের সৃষ্টি হয়।

এ সময় ভুক্তভোগীরা বলেন, নদী ভাঙ্গন রোধে ইতো পূর্বে জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডে স্মারকলিপি দিয়েছি। কিন্তু কোন ফল পাইনি। যার ফলে শত শত মানুষের ঘর বাড়ি, ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে। এমন কি মাটির বেড়িবাঁধ ভাঙনের মুখে পড়েছে। কৃষি কাজে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
আন্দোলনকারীরা আরো জানান, আমার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা নদীর ভাঙ্গনের সম্মুখীন হচ্ছি। মেঘনা নদীর ভাঙ্গনে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে আমাদের এ তিনটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ন এলাকা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে কৃষি জমি, ভিটা-বাড়ী, রাস্তাঘাট, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাঙ্গনের স্বীকার হচ্ছে। এই ভাঙ্গনের ফলে নতুন করে দিন দিন অনেক মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছেন। ভাঙনের ফলে বর্তমানে আমাদের জীবন-জীবীকা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। নদী ভাঙ্গনের কারনে জলাবদ্ধতা বাড়ছে এবং বন্যার সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে। বর্তমানে এ সকল ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ ও শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হুমকির মধ্যে রয়েছে। বর্ষার সময় পানি বৃদ্ধির ফলে কৃষি জমি ও ঘরভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে এখানকার বাসিন্দারা। দ্রুত এ সকল এলাকায় সিসি ব্লকের মাধ্যমে স্থায়ী বেড়িবাঁধ দেওয়া না হলে অচিরেই এ তিনটি ইউনিয়নের শত শত ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান করা না হলে ভোলা শহরও পানিতে তলিয়ে যাবে। তাই দ্রুত নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে জরুরী ভিত্তিতে সিসি ব্লক দিয়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণ নির্মাণের দাবী জানান এলাকাবাসী। অন্যথায় আরো কঠোর কর্মসূচির দেওয়া হবে। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন,ভোলা জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও শিবপুর ইউনিয়নের সভাপতি একেএম নুর হোসেন, হেফাজত ইসলামের ভোলা জেলার সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও রতনপুর মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা মিজানুর রহমান আজাদী, জেলা যুবদলের তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিজ্ঞান সম্পাদক মো. ইয়াসিন আরাফাত সোহাগ, ইসলামী আন্দোলন আন্দোলন শিবপুর ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক মো. আবু জাফরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জিয়া উদ্দীন আরিফ ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউল হক আশ্বাস দিলে সড়ক অবরোধ ও ঘেরাও কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন তারা।
ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দীন আরিফ বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, শিবপুরসহ ভাঙনকবলিত এলাকায় আজ থেকেই দ্রুত গতিতে জিও ব্যাগ ও টিউব ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে। তিনি আরও জানান, মেঘনা নদীর ঝুঁকিপূর্ণ ৪ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ ও ৬ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণে ৭৩০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে দ্রুত স্থায়ী টেকসই বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
এ সময় তারা মেঘনা নদীর ভাঙন রোধে শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া ইউনিয়নে স্থানীয় সিসি ব্লকের দাবিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং জেলা প্রশাসক বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করেন।