রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার শাহাপুর এলাকায় শীতের শুরুতেই ভেজাল গুড় তৈরির কারবার রমরমা আকার ধারণ করেছে। বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকালে চারটি কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, আখ বা খেজুরের রস ছাড়াই চিনি, আটা, হাইড্রোজ, গ্যাস পাউডার, ফিটকিরি, চুন এবং কাপড়ের রং মিশিয়ে গুড় তৈরি করা হচ্ছে।
কারখানার মালিক নান্টু মিয়ার স্ত্রী মোসা. লাকি অকপটে স্বীকার করেছেন, এসব গুড়ে কোনো রস ব্যবহার করা হয়নি। তিনি বলেন, “শুধু চিনি দিয়ে আখ ও খেজুরের গুড় বানানো হয়। এর সঙ্গে কাপড়ের রং, আটা, হাইড্রোজ, গ্যাস পাউডার, চুন মেশানো হয়।” এসব গুড় রাজশাহী, নাটোর ও পাবনার বিভিন্ন বাজারে পাঠানো হয় এবং অনলাইনেও বিক্রি হয়।
র্যাব-৫ এর সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই টন ভেজাল গুড় জব্দ করে ধ্বংস করেছে। উপ-অধিনায়ক মেজর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “এখানে যে গুড় পাওয়া গেছে, তাতে আখ বা খেজুরের রস নেই। সবই চিনি ও কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি।”
ভোক্তা অধিদপ্তর চারটি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। উপপরিচালক ইব্রাহিম হোসেন জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে আরও কারখানায় অভিযান চালানো হবে এবং অনলাইনে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা গুড়ও ধ্বংস করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব ভেজাল গুড় মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। চটকদার বিজ্ঞাপন ও প্রলোভনে অনলাইনে উদ্যোক্তারা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। রাজশাহীতে বছরে অন্তত শত কোটি টাকার গুড়ের ব্যবসা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন