পিলখানা হত্যাকাণ্ড তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার পরিকল্পনার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, যা অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে প্রায় ১১ মাসের অনুসন্ধান শেষে গত রোববার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ব্যারিস্টার তাপসের বাসায় আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের উপস্থিতিতে বিডিআর সদস্যদের একাধিক বৈঠক হয়। প্রথমে অফিসারদের জিম্মি করার পরিকল্পনা থাকলেও পরে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈঠকে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার ২৪ জন সদস্যও অংশ নেন। সেখানে সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার সিদ্ধান্ত হয় এবং তাপসকে সংশ্লিষ্টদের নিরাপদে পালিয়ে যেতে সহায়তার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগের নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, লেদার লিটন ও তোরাব আলী একাধিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এসব বিষয়ে ৪৪ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের সিও কর্নেল শামস অবগত ছিলেন। তাপস তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে অনুমোদন নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
তদন্তে উঠে আসে, সাধারণ বিডিআর সদস্যদের ক্ষোভকে উসকে দিয়ে বিদ্রোহ সৃষ্টি করা হয় এবং হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্যে বিপুল অর্থ বিতরণ করা হয়। সংসদ সদস্য গোলাম রেজা জানিয়েছেন, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে তিনি পিলখানা এলাকায় শেখ সেলিমসহ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে দেখেছেন।

মন্তব্য করুন