দেশের চিকিৎসা শিক্ষার ইতিহাসে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন পাঁচ জোড়া যমজ বোন। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এই ১০ জন কৃতি শিক্ষার্থী একসাথে সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, রংপুর ও পঞ্চগড় জেলার এই যমজ বোনদের সাফল্যে এখন ভাসছে গোটা দেশ।
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ থেকেই সাফল্য এসেছে দুই জোড়া যমজের। মাখনুন আক্তার ও মুসফিকা নাজনিন দুই বোনই এখন হবু ডাক্তার। মাখনুন সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও মুসফিকা ময়মনসিংহ মেডিকেলে সুযোগ পেয়েছেন। একই উপজেলার মুতমাইন্না সারাহ ও মুমতাহিনা সামিহাও দেখিয়েছেন চমক; তারা সুযোগ পেয়েছেন যথাক্রমে মুগদা ও সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে।
ময়মনসিংহে বাবার পেশাকেই বেছে নিয়েছেন যমজ দুই বোন মিহা ও লিহা। তাদের বাবা ময়মনসিংহ মেডিকেলের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম. কামরুজ্জামান মানিক। মিহা তার বাবার কর্মস্থল ময়মনসিংহ মেডিকেলেই পড়ার সুযোগ পেয়েছেন, আর লিহা লড়বেন নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজের হয়ে। ছোটবেলা থেকেই তারা দুজনে পড়াশোনায় ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী।
উত্তরাঞ্চলের রংপুর ও পঞ্চগড় থেকেও এসেছে সাফল্যের খবর। রংপুরের নাজাহ ও নুবাহ যথাক্রমে কুষ্টিয়া ও নীলফামারী মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। অন্যদিকে, পঞ্চগড়ের এক কৃষক পরিবারের সন্তান পূজা ও পলি রানী রায় সকল বাধা জয় করে সুযোগ পেয়েছেন কুষ্টিয়া ও নীলফামারী মেডিকেল কলেজে। তাদের এই অদম্য যাত্রায় গর্বিত স্থানীয় এলাকাবাসী।
এই ১০ কৃতি শিক্ষার্থীর অধিকাংশের মতেই, কেবল রাত জেগে পড়া নয় বরং নিয়ম মেনে পড়া এবং একে অপরের প্রতি সহযোগিতামূলক প্রতিযোগিতাই ছিল এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তাদের এই অদম্য পথচলা দেশের হাজারো শিক্ষার্থীর জন্য নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

মন্তব্য করুন