সোমবার, ১লা জুন, ২০২০ ইং, ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী
সোমবার, ১লা জুন, ২০২০ ইং

কোরআন হাদিসের আলোকে নামাজ

কোরআন হাদিসের আলোকে নামাজ

নামাজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম। নামাজের রয়েছে সীমাহীন গুরুত্ব ও অসংখ্য ফজিলত। ইমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো নামাজ। কোরআনে কারিমে ১২১ বার নামাজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘সমস্ত নামাজের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাজের ব্যাপারে। আর আল্লাহর সামনে একান্ত আদবের সঙ্গে দাঁড়াও।’-সূরা বাকারা : ২৩৮
নামাজ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হচ্ছে, ‘নামাজ হলো দ্বীনের স্তম্ভ। সুতরাং যে নামাজ কায়েম করল সে দ্বীনকে কায়েম করল আর যে নামাজকে তরক করল, সে দ্বীনকে ধ্বংস করল।’ প্রতিটি মুমিনের জন্য নামাজ আদায় করা ফরজ বা অত্যাবশ্যকীয়, যা অবশ্যই পালনতব্য। এ মর্মে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আর নামাজ আদায় করো, জাকাত দান করো এবং নামাজে অবনত হও তাদের সঙ্গে, যারা অবনত হয়।’-সূরা বাকারা : ৪৩
এমনিভাবে নামাজের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমের ১০৯ জায়গায় সুস্পষ্টভাবে আর বাকি ৭০০ জায়গায় ইশারা-ইঙ্গিতে নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। ইসলামে নামাজের চেয়ে বড় কোনো ইবাদত নেই। নামাজ মানুষকে সর্বপ্রকার অন্যায় ও অশ্লীলতা থেকে বিরত রাখে। এ বিষয়ে ইরশাদ হচ্ছে, ‘আপনি আপনার প্রতি প্রত্যাদিষ্ট কিতাব পাঠ করুন এবং নামাজ কায়েম করুন। নিশ্চয় নামাজ অশ্লীল ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখে।’-সূরা আনকাবুত : ৪৫
যে ব্যক্তি নামাজ কায়েম করেন, তিনি গোনাহ থেকে মুক্ত থাকেন। তবে শর্ত হলো, শুধু নামাজ পড়লে চলবে না; বরং কোরআনের ভাষা অনুযায়ী ‘ইকামতে সালাত’ হতে হবে। রাসূল (সা.) যেভাবে নামাজ আদায় করেছেন, শিক্ষা দিয়েছেন, ঠিক সেভাবে নামাজ আদায় করতে হবে। আল্লাহর সামনে এমনভাবে বিনয়াবনত ও একাগ্রতা সহকারে দাঁড়ানো যেন, তার কাছে আবেদন-নিবেদন করা হচ্ছে। যে ব্যক্তি এভাবে নামাজ কায়েম করেন, তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনাআপনি সৎ কাজের তওফিক প্রাপ্ত হন এবং যাবতীয় গোনাহ থেকে মুক্ত থাকেন।
নামাজে দুনিয়া এবং আখেরাতে রয়েছে অসংখ্য ফায়দাথ ১. নামাজ পবিত্রতার অভ্যাস গড়ে তোলে; ২. নামাজ মানুষকে সময়ের অনুগামী হওয়া শিক্ষা দেয়; ৩. নামাজের বরকতে গুনাহ থেকে বাঁচা সহজ হয়; ৪. জামাতে নামাজ পড়ার দ্বারা পরস্পরে ভালোবাসা সৃষ্টি হয়; ৫. নামাজ কবরে প্রদীপের কাজ দেয়; ৬. নামাজ আখেরাতের উত্তম পাথেয়; ৭. নামাজের দ্বারা অন্তরে প্রশান্তি হয়; ৮. মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জন হয়; ৯. নামাজে অভ্যস্ত হওয়ার দ্বারা কিয়ামতের দিন নবীর (সা.) শাফায়াত নসিব হয়। এক হাদিসে নবী করিম (সা.) নামাজকে জান্নাতের চাবি বলে আখ্যায়িত করেছেন।
নামাজের ফজিলত সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঠিকমতো নামাজ আদায় করে, তার সমস্ত গোনাহ মাফ হয়ে যায়। জান্নাতের দরজাগুলো খুলে যায়। জাহান্নাম তার জন্য হারাম হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, ‘নিয়মিত নামাজ আদায়কারীকে আল্লাহতায়ালা পাঁচটি পুরস্কার দান করবেন- এক. রিজিকের অভাব দূর করে দেবেন; দুই. কবরের আজাব মাফ করে দেবেন; তিন. আমলনামা ডান হাতে দেবেন; চার. পুলসিরাত চোখের পলকে পার করে দেবেন ও পাঁচ. বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।