
শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চায় আত্মনিবেদিত, তারুণ্যে উদ্দীপ্ত সাংস্কৃতিক কর্মী তরুণ রাসেল। বাংলাদেশের সংস্কৃতি অঙ্গনের উদীয়মান একজন নন্দিত আবৃত্তিশিল্পী, উপস্থাপক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠক। শুদ্ধধারার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের সংগঠন শুভজন এর প্রতিষ্ঠাতা তিনি। আবৃত্তি ও উপস্থাপনায় সাবলীল মুখ তরুন রাসেল নিয়মিত মঞ্চ ও টেলিভিশনে আবৃত্তি করেন। বাচিক শিক্ষক হিসেবে বুলবুল একাডেমী অফ ফাইন আর্টস (বাফায়) শিক্ষকতা করছেন। অগ্নিবীণার ব্যানারে আবৃত্তিশিল্পী তামান্না জেসমিনের সাথে তাঁর একটি দ্বৈত আবৃত্তির অ্যালবাম প্রকাশ পেয়েছে বছর চারেক আগে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক আবৃত্তি সংগঠন সংবৃতার সিনিয়র সদস্য এবং শুদ্ধাচার নামে তার গড়া একটি শুদ্ধ উচ্চারণ, আবৃত্তি, উপস্থাপনা ও মানবিকতার পাঠশালা আছে। ‘প্রকাশটা হোক ভাষার শুদ্ধতায়’ স্লোগানে যেখানে শুদ্ধভাবে মাতৃভাষা চর্চার মাধ্যমে মানবিক মানুষ হওয়ার দীক্ষা দেয়া হয়। আবৃত্তিতে ১৯৯৮ সালে জাতীয় শিশু পুরস্কার সহ আবৃত্তি ও উপস্থাপনায় পেয়েছেন বাউল তরী পদক এবং শেখ রাসেল স্মৃতি পাঠাগার সম্মাননাসহ আরও অনেক পুরস্কার।
তরুণ রাসেল পেশায় একজন বিজ্ঞানী। বাংলাদেশ বিজ্ঞান এবং শিল্প গবেষণাগার তথা সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে গবেষক হিসেবে কর্মরত তরুণ রাসেল বিজ্ঞানী হিসেবে পেয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে “শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবক” পুরস্কার। স্বাভাবিকতার প্রতি দূর্বার টান থেকে তিনি নিয়মিত লেখালেখিও করে থাকেন। তার লেখা অনেক গল্প, প্রবন্ধ ও কবিতা প্রকাশ পেয়েছে বিভিন্ন দেশি বিদেশি পত্র-পত্রিকা এবং জার্নালে। এসবের পাশাপাশি মুক্তসাংবাদিকতার সাথেও যুক্ত আছেন। প্রায় পঁচিশ বছর যাবত লেখালেখির সাথে যুক্ত থাকলেও নিজেকে লেখক নয় বরং পাঠক হিসেবেই পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তিনি। তার মতে লেখক হচ্ছেন সমাজ সংস্কারের ধারালো অস্ত্র। লেখালেখি শাণিত না হলে ভোঁতা অস্ত্র হয়ে লাভ নেই। ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে সমাজ পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তরুণ রাসেলের জন্ম ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৬ সালে পদ্মার পলিদ্বীপ খ্যাত শরীয়তপুরের পালং শহরে। তাঁর বাবা একাত্তরের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের একজন বীর গেরিলা যোদ্ধা । ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং দেশপ্রেমে উদ্দীপ্ত বহুমুখী প্রতিভার গুণী সাংস্কৃতিক কর্মী তরুণ রাসেল এর শুভ জন্মদিনে আমাদের প্রাণের শুভেচ্ছা।