Tuesday 25th June 2024
Tuesday 25th June 2024

Notice: Undefined index: top-menu-onoff-sm in /home/hongkarc/rudrabarta.net/wp-content/themes/newsuncode/lib/part/top-part.php on line 67

শরীয়তপুর নেই প্রশাসনের নজরদারি, রেস্টুরেন্টের আড়ালে চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ

শরীয়তপুর নেই প্রশাসনের নজরদারি, রেস্টুরেন্টের আড়ালে চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় মিনি চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুড দোকানের আড়ালে চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ। আলো-আঁধারের মাঝে ছোট ছোট কেবিন তৈরি করে ডামুড্যা উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য মিনি চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুডের দোকান। ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠা এসব রেস্টুরেন্টের প্রধান আয় আগতদের কাছে থেকে পাওয়া ‘ওয়েটিং বিল’। স্কুল-কলেজ-ভার্সিটি পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস চলাকালীন ‘ওয়েটিংয়ের’ নামে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের লোকজনদের ভাষ্যমতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর না হওয়ায় দিন দিন উপজেলায় মিনি চাইনিজ ও রেস্টুরেন্টের আড়ালে অনৈতিক কার্যকলাপ বেড়েই চলেছে।

স্থানীয় প্রভাবশালীরা প্রতিষ্ঠান গুলোর মালিক হওয়ায় এসবের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস করেন না কেউ। উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় গজিয়ে ওঠা এসব মিনি চাইনিজ ও ফাস্টফুডের দোকান নিয়ে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার অলি-গলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজে উঠেছে কয়েক ডজন মিনি চাইনিজ ও ফাস্টফুডের দোকান। বাহ্যিক দৃষ্টিতে অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন এসব রেস্টুরেন্টের ভিতরে কী হচ্ছে তার খবর কেউ রাখে না। বেশিরভাগ দোকানের ভিতরে ছোট ছোট কেবিন তৈরি করা। সেগুলোতে আবার পৃথক কপাট (দরজা) আছে। ভিতর থেকে সে কপাট আটকানো যায়। বাহির থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই যে, এসবের ভিতরে কি আছে।

সম্প্রতি এক নারী ডামুড্যা উপজেলার সরদার মার্কেটের তাজ গার্ডেন রেস্টুরেন্টে বিয়ের প্রলোভনে তার প্রেমিক কর্তৃক ধর্ষিত হয় বলে জানিয়েছে। এরপর ওই রেস্টুরেন্টে গিয়ে দেখা যায়, মূল ফটক থেকে কেবিনগুলো বেশ দূরে। আলো-আধারে স্পষ্ট কিছু দেখা যায় না। তার কাছে জানা গেলো এখানে খাওয়ার চেয়ে ‘ওয়েটিং’ বিলটাই মুখ্য। কেবিনগুলোতে পিক আওয়ারে ২৫০ টাকা এবং অফ-পিকে ২শ’ টাকা ঘণ্টা ধরে বিল হয়। পিক আওয়ার শুরু হয় সকাল ৯টা থেকে। অফ-পিক বিকাল ৩টা থেকে ৬টা। সন্ধ্যার পর থেকে আবার রাত ৯টা পর্যন্ত চলে। ওই সব কেবিনে কারা বসে জানতে চাইলে ওয়েটার জানায়, সাধারণত স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা কেবিনগুলোতে বসে গল্প করে। শুধু তাজ গার্ডেনই নয় এরকম উপজেলায় আরও কয়েকটি রেস্টুরেন্ট আছে তার মধ্যে অন্যতম ছৈয়াল মার্কেটে অবস্থিত লাভ মম রেস্টুরেন্ট। মূলত স্কুলসহ এই এলাকার বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে এই রেস্টুরেন্টগুলো গড়ে উঠেছে।

স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, মিনি চাইনিজ রেস্টুরেন্টের ব্যবসার আড়ালে উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীদের অসামাজিক কার্যকলাপ করার সুযোগ করে দিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। চাইনিজ রেস্টুরেন্টগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা উচিত।

তাজ গার্ডেন রেস্টুরেন্টের পরিচালক মাসুদ তালুকদার বলেন, তার এখানে কোন অসামাজিক কর্মকান্ড হয় না। খুপড়ি ঘরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করে বলেন, রেস্টুরেন্টের ভিতরে আলাদাভাবে পর্দাঢাকা খুপড়ি ঘর রাখা হয়েছে কিছু কাস্টমারের জন্য।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমারত হোসেন বলেন, এবিষয়ে আমার জানা নেই। এই ঘটনার যদি সত্যতা পাই তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।