• ব্রেকিং নিউজ

    বিএসসি, এমপিএইচ, পিএইচডিধারী থাকার পরেও নার্সিং দপ্তর ঢেলে সাজানো হচ্ছে না!

    রুদ্রবার্তা প্রতিবেদক

    প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সময়: ১০:০৬ অপরাহ্ণ 1326 বার

    বিএসসি, এমপিএইচ, পিএইচডিধারী থাকার পরেও নার্সিং দপ্তর ঢেলে সাজানো হচ্ছে না!

    নার্সিং বিভাগ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিজ্ঞান বিভাগের একটি অন্যতম অঙ্গ। নার্সিং বিভাগ এড়িয়ে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিজ্ঞান বিভাগের সফলতা চিন্তা করা যায় না। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিজ্ঞান বিভাগের অন্যতম একটি অঙ্গ নার্সিং বিভাগের সুবিধা-অসুবিধা, একাল-সেকাল খুব বেশী তিতে ও ফিকে বলেই মনে হচ্ছে। সময়ের প্রয়োজনে চিকিৎসা বিজ্ঞান বিভাগের সকল অপসনে ব্যাপক পরিবর্তন ও আধুনিকায়ন হলেও নার্সিং বিভাগ চিরবঞ্চিত ও অবহেলিতই থেকে গেছে। আর এর সঙ্গে জড়িত লক্ষ-লক্ষ কর্মী নিজেদের মান-মর্যাদা ভুলুন্ঠিত করে দিন-রাত দায়িত্ব পালন করে অসুস্থ, মৃত্যু পথযাত্রী মানুষের কাছে থেকে, পাশে থেকে, আপনার চেয়ে আপন হয়ে কখনো মাতৃস্নেহে, কখনো ভগ্নী স্নেহে, কখনো পিত্রী স্নেহে, কখনো জীব সঙ্গীর সোহাগের দোহাই, আদর-যত্ন, মায়া-মমতা দিয়ে আসছেন। অথচ এ সব সেবক-সেবিকাদের খবর কেউ রাখছেন না। নিরবে নিভৃতে অবিরাম নিরলসভাবে তারা নিজকে উৎসর্গ করে হাসপাতাল-ক্লিনিকের শয্যাপাশে আপন মনে সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন।

    সেবা একটি মহান পেশা। চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে সেবাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সেবক-সেবিকাগণ। সৃষ্টির ঊষা লগ্ন থেকে জগতের সঙ্গে সেবা কথাটি সংযুক্ত-সম্পৃক্ত হয়ে আছে। সেবার নানা ভাবে বিস্তৃত ও বিচিত্র। যেমন, জনসেবা, সমাজসেবা, মানবসেবা, স্বাস্থ্যসেবা ইত্যাদি। ইত্যাদি নানাধরনের সেবাকর্মের আদল থাকলেও একমাত্র পেশা হিসেবে স্বীকৃত। সারা পৃথিবীর এ স্বাস্থ্য সেবা পেশার সঙ্গে লক্ষ-লক্ষ কর্মী জড়িত। অন্যান্য সেবা কর্ম পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারেনি। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিজ্ঞান বিভাগের সঙ্গে সেবাকর্ম নানা বিবর্তন পেরিয়ে নার্সিং বিভাগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

    এ সব সেবক-সেবিকাদের কেউ নার্স, কেউবা সিস্টার, কেউবা ব্রাদার বলে ডেকে নিজের অসুবিধার কথা তুলে ধরে সেবা নিচ্ছেন। কেউ তাদের কাছে সুবিধার কথা কোনদিন বলে না। কেউ ব্যথা-বেদনার কথা বলে, কেউবা না পাওয়ার কথা বলে, কেউ আবার উদ্ভট যতসব অভাব-অভিযোগ কিংবা আবদারের কথা বলে থাকেন। অত্যন্ত বিনয়ের সাথে সকল ধরণের রুগী বা রুগীর সঙ্গীর কথা শুনতে হয় সেবক-সেবিকাদের। শত অপ্রতুল্যতা, অপর্যাপ্ততা থাকার পর সবার চাহিদা কম-বেশী মিটাতে হয় সেবক-সেবিকাদের কাউকে শান্তনা দিতে হয়, কাউকে উপদেশ দিতে হয়, কাউকে সোহাগের দোহাই দিতে হয়, কাউকে ওষুধ দিতে হয়। এসব দিতে গিয়ে অনেক সময় অনেক বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখমোখী হতে হয়। অথচ চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান ঔষধ-পত্র লিখে দিয়ে ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়েই খালাস। কখনই কোন জটিল-কঠিন, মৃত্যু পথযাত্রী রোগী কিংবা তার আত্মীয়-স্বজনের আর্তনাদ কোন চিকিৎসক বা টেকনিশিয়ানদের শুনতে হয় না। যত উৎর্সনা, যত আহাজারী, যত কান্না, যত চিৎকার, যত অভাব অভিযোগের বানী নার্সেদেরই শুনতে হয়। অথচ এসব নার্সদের কোন মর্যাদার কথা কেউ কোনদিন চিন্তা করেছে বলে মনে হয়না। তাদেরও অভাব-অভিযোগ রয়েছে। তাদের সুযোগ-সুবিধার কথা কেউ আমলেই নিচ্ছেন না। বরং সকলেই তাদেরকে অবজ্ঞা করছেন। কেউ-কেউ একটু এগিয়ে গিয়ে নার্সিং পেশাকে অমর্যাদাকর বানাতেও দ্বিধা করছেন না। খোদ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিভাগের লোকজনই তাদেরকে স্বীকৃতি দিতে চাচ্ছেন না। মনে হয় নার্সিং পেশায় নার্সরা ভীন গ্রহ থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসেছে। যদিও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেক্টরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অপশন নার্সিং বিভাগের নার্সদের ক্ষেত্রবিশেষ দ্বিতীয় ও প্রথম শ্রেণী পেশার মর্যাদা দিয়েছেন এরপরও অনেকেই তা মেনে নিতে পারছেন না। কেউ-কেউ মানলেও তা কেবলই মানার জন্য মানা ছাড়া অর অন্য কিছু নয়। এ অবস্থা সরকারি ও বে-সরকারি সকল ক্ষেত্রেই বিদ্যমান। বে-সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতেও একই অবস্থা বিরাজমান। দেশের সরকারি, বে-সরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের ভাব, দাপট, মান-মর্যাদা, আরাম-আয়েশ ও প্রভাব আকাশচুম্বী হলেও নার্সরা কলুর বলদ ছাড়া অন্য কিছু নয়। অনেক সময় সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে তাদের উপর অনেক দোষ চাপিয়ে দেয়া হয়। তাদের প্রতিষ্ঠিত জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হয়। দায়-দায়িত্ব বহন করতে হয়। কারণ রুগী ও রুগীর স্বজনদের আশে-পাশে নার্সরা সদা বিচরণ করে। সহজেই তাদেরকে কাছে পাওয়া যায়। কোন ডাক্তার কোনদিন কোন রুগীর ওয়ার্ডের পাশে অবস্থান করেন না। নার্সরা রোগীর পাশে রাত দিন ২৪ ঘন্টা অবস্থান করেন। কোন টেকনিশিয়ানকে নিজ কক্ষ ছেড়ে কোনদিন কোন রুগীর পাশে আসতে হয়না, বসতে হয়না। ডাক্তার কিংবা টেকনিশিয়ানদের রুগীর পাশে সহঅবস্থান করতে হয়না। যেটা নার্সদের করতে হয়। অথচ ডাক্তার টেকনিশিয়ানদের যে সুযোগ-সুবিধা, মর্যদা রয়েছে নার্সদের সে সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদা নেই বললেই চলে। আমাদের দেশে স্বাস্থ্য বিভাগকে দুই ভাগে ভাগ করে কর্মসম্পাদন হচ্ছে। এর একভাগ হলো স্বাস্থ্য বিভাগ অন্য ভাগ হলে পরিবার কল্যাণ বিভাগ। দুই বিভাগের দুইটি অধিদপ্তর থাকলেও নার্সিং বিভাগের কোন স্বতন্ত্র অধিদপ্তর নেই। যা এক ধরণের বৈষম্য। নার্সিং বিভাগ স্বাস্থ্য বিভাগের একটি অন্যতম অঙ্গঁ। এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কিন্তু এ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগটির জন্য স্বতন্ত্র একটি অধিদপ্তর নেই। যার কারণে সঠিক ও সুচারুভাবে এ বিভাগ বিকশিত হচ্ছে না। নার্সিং কাউন্সিল নার্সদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দিতে পারছে না। নার্সিং অধিদপ্তর থাকলে যা যা করা যেত নার্সিং কাউন্সিল তা করতে পারছেনা। নার্সিং কাউন্সিলের মাধ্যমে আইনগত সমস্যার কারণে ইচ্ছা থাকার পরও অনেক কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই নার্সদের মান-মর্যাদা, সুযোগ-সুবিধা, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রনের জন্য নার্সিং অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা একান্ত প্রয়োজন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিবার-পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পাশাপাশি নার্সিং অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবী। দেশের নার্সিংখাতে যে পরিমান জনবল রয়েছে এবং এ খাতের উপর কমবেশী প্রতিটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা যেহেতু নির্ভরশীল সেহেতু নার্সিং অধিদপ্তরের প্রয়োজন, গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে স্বাস্থ্য বিভাগের সকল কাজকর্ম নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয় ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মাধ্যমে এ বিভাগের সকল কাজকর্ম ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ন্ত্রিত হয়। অথচ একই পরিমান জনবল, কাঠামো, চাহিদা ও প্রয়োজন থাকার পরও নার্সিং অধিদপ্তরের অস্তিত্ব নেই যা ভাবা যায় না। প্রকারান্তরে নার্সদের এটা চরম অবহেলা অবজ্ঞা ছাড়া অন্য কিছু নয়।
    একইভাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের যে অর্গানোগ্রাম সাজানো হয়েছে নার্সিং অধিদপ্তর না থাকার কারণে নার্সিং বিভাগে তা অনুপস্থিত। এতেই প্রতীয়মান যে, অবহেলিত ও বঞ্চিত। মায়ের তিনটি যমজ বাচ্চা হলে দুইটি বাচ্চা একসাথে স্তন্য পান করে আর তৃতীয় বাচ্চাটি সম অধিকারের হলেও ভোগের ক্ষেত্রে বঞ্চিত হয়ে সব কিছু যেমন দেখে যান আমাদের অতি আপন, বিপদের সারথী, অসুখে সোহাগের হাতছানির স্বরূপ নার্সরা ঠিক তেমন। তৃতীয় বাচ্চাটির মত তার শুধু ভোগ কাকে বলে তা দেখে যাচ্ছেন। ভোগ করতে পারছেন না। যা অতি পরিতাপের বিষয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নার্সিং অধিদপ্তর না থাকার কারণে বিভিন্ন পর্যায়ে নার্সরা সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। তাদের নেই কোন কার্যালয়, নেই অধিনস্থ। এমন কী কোন যাণবাহন ও তাদের জন্য বরাদ্ধ নেই। অথচ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থান করে অনেক ঝুকি মোকাবেলা করে নার্সদের দৈনন্দিন কার্যাবলী সম্পাদন করতে হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা বিভাগের অধিদপ্তর সমূহে মহা-পরিচালক, পরিচালক, উপ-মহাপরিচালক, সহকারী পরিচালক, জেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদ থাকলেও নার্সিং বিভাগে তা অনুপস্থিত এসব কর্মকর্তাদের অফিস, আবাসিক, যানবাহন পিয়ন, গার্ড ইত্যাদি সুবিধা বিদ্যমান। নার্সিং অধিদপ্তর না থাকার কারণে নার্সিং বিভাগে এসব সুযোগ সুবিধা অনুপস্থিত। অন্যদিকে নার্সিং অধিদপ্তর না থাকায় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের টানা-টানিতে রয়েছেন নার্সরা। প্রকৃতভাবে নিজেদের বিভাগীয় কোন কর্মকর্তা না থাকায় উল্লেখিত দুই বিভাগের টানা হেঁচড়ায় আছেন সেবক-সেবিকাগণ। স্বাধীনতার পরপর বিশেষ করে জেলা পর্যায়ের পাবলিক হেলথ্ নার্স রিতিমত জীবনের ঝুকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের সিভিল সার্জন ও জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার আলাদা-আলাদা অফিস, গাড়ী, পিয়ন গার্ড রয়েছে। কিন্তু জেলা পাবলিক হেলথ্ নার্সের কোন আলাদা অফিস, গাড়ী, পিয়ন বা গার্ড নেই। দায়িত্বের দিক থেকে সিভিল সার্জন ও জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার চেয়ে জেলা পাবলিক হেল। নার্সের দায়িত্ব এতটুকু কম নয়। ক্ষেত্র বিশেষে বরং বেশী। কারণ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ও স্বাস্থ্য বিভাগের নৈশ প্রহরী ছাড়া অন্য কারো নৈশ ডিউটি নেই বললেই চলে। অথচ নার্সদের পালাক্রমে দিনরাত ডিউটি করতে হয়। এ ক্ষেত্রে সেবক-সেবিকাগণ ও তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা পাবলিক হেল্থ নার্স এর কার্যক্রম পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ এ কার্য সুচারুরূপে সম্পাদনের জন্য জেলা পাবলিক হেল্থ নার্সের আলাদা অফিস ও আলাদা জনবল যেমন, কম্পিউটার অপারেটর, ক্লার্ক, ফটো কপিমেশিন অপারেটর, রিসিপসনিষ্ট, পিয়ন ও গার্ড প্রয়োজন। এ জনবলের সঙ্গে প্রযুক্তি সংযোজনও জরুরী। সে সাথে জেলা পর্যায়ের নার্সদের পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রনের জন্য বর্তমানের ডিষ্ট্রিক্ট পাবলিক হেল্থ নার্স পদবীধারী কর্মকর্তার পদবীটি বড় বেমানান। এ পদবীটি ডিস্ট্রিক্ট পাবলিক হেল্থ নার্স অফিসার করা এখন সময়ের বাস্তব দাবী। নার্সরা এখন ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমাধারী। এদের মধ্যে অনেকে বিএসসি নার্সিং ডিগ্রীধারী। নার্সিংএর কেউ কেউ এমএসসি ও এমপিএইচ এবং পিএইচডি ডিগ্রীও অর্জন করেছেন। সুতরাং তাদের নিয়ন্ত্রক কোন মতেই ডিস্ট্রিক্ট পাবলিক হেল্থ নার্স উপাধীটি বেমানান। অনতিবিলম্বে এ পদের পরিবর্তন আনা দরকার, প্রোমশন দেয়া দরকার। দরকার আলাদা অফিস, আলাদা জনবল ও অন্যান্য কাঠামোও প্রযুক্তিগত সুবিধা। সে সাথে দরকার যানবহান। কারণ প্রতিদিন কাজের খাতিরেই ডিস্ট্রিক্ট পাবলিক হেল্থ নার্সকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিভিন্ন উপজেলা, ক্ষেত্র বিশেষ ইউনিয়ন পর্যায়ে যেতে হয়। এ যাওয়া আসা যেমন ঝুঁকিপূর্ণ তেমন ব্যয় বহুল। এতে প্রচুর সময়ও ব্যয় হয়ে থাকে। ডিস্ট্রিক্ট পাবলিক হেল্থ নার্সগণ যদি পরিবহন সুবিধার আওতায় আসে তাহলে নার্সিং বিভাগে নতুন গতির সঞ্চয় হবে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষ অবশ্যই ভেবে দেখবেন বলে আমি বিশ^াস করি। কারণ একজন মানুষকে সুস্থ জীবনযাপন করতে হলে চিকিৎসার পাশাপাশি সেবা বা নার্সিং এর দরকার অপরিহার্য। অপরিহার্য এ কাজের সঙ্গেঁ সম্পৃক্তদের অবহেলা অবজ্ঞা করে আমাদের সংবিধানিক মৌলিক অধিকার স্বাস্থ্য খাত রক্ষা হতে পারে না। নার্সগণ তৃনমূল পর্যায়ে জনগনের নিকটে থেকে সেবা প্রদান করে থাকে। তাদের থেকে উচ্চ শিক্ষিতদের বাছাই করে নার্সিং অধিদপ্তরে বিভিন্নপদে নিয়োগ করা যেতে পারে। পুলিশের নি¤œ পদথেকে যেমন উচ্চ পদে পদায়ন করা হয় তেমনিই তাদেরকেও দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে যথাস্থানে কাজে নিয়েজিত করা যেতে পারে। তাদের অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতাই নর্সিং বিভাগ আরো উন্নত হবে। প্রধানমন্ত্রী নারী, আমার মা একজন নারী । মাজাতি নর্সরাই পারে রোগীদেরকে সন্তানের মত মমতাময়ী হয়ে সেবা দিতে। উচ্চশিক্ষিতরাই নার্সদের প্রধাদের দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেলে নার্সদের নার্সদের সেবারমান আরো বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করি।

    দেশের সব কিছুতেই ব্যাপক পরিবর্তন, পরিবর্ধণ, সংযোজন বিয়োজন হচ্ছে। এ অবস্থায় জীবনের জন্য অপরিহার্য নার্সিং খাত পিছিয়ে থাকা কাম্য হতে পারে না। সবাই যেখানে সুবিধা পাচ্ছে নার্সরা সেখানে চরম অসুবিধায় থাকবে এটা মেনে নেয়া যায় না। নার্সরা পেশায় যোগদানের পর তারা দেশ-বিদেশে ভাল প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছে না। তাদের উচ্চতর ডিগ্রী নেয়ার সুবিধাও তেমন সম্প্রসারিত নয়। নেই তাদের জন্য কোন বৃত্তিমূলক শিক্ষার ব্যবস্থা। এ নিয়ে নার্সদের দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অভিযোগের সীমা নেই। বিষয়টি নিয়ে আমি অনেক হোম ওয়ার্ক করেছি। নার্সদের সাথে আলাপ করেছি। অনেকেই দুঃখ ভারাক্রন্ত হৃদয়ে তাদের অভাব অভিযোগের কথা বর্ণনা করেছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রতিকার চেয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে নার্সিং বিভাগকে আলাদা করার পক্ষে সবাই একবাক্যে মতামত ব্যক্ত করেছে। একটি স্বাতন্ত্র নার্সিং বিভাগ ও তার অর্গানোগ্রাম, তৈরীর দুর্দমনীয় আকাঙ্খা রয়েছে চিকিৎসা জগতের অন্যতম একটি দিক নার্সিং বিভাগের নার্সদের। কারণ নার্সরাই পেশাগত ভাবে শতভাগ দায়িত্বশীল। একজন নার্স দায়িত্ব পালনকালে পরবর্তী নার্স দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে অন্য কোন কিছু করার বা অন্যত্র যাওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ থাকেনা। এ নার্সদের মান-মর্যাদা সম্মান কতটুকু রক্ষা হচ্ছে তাও ভেবে দেখার সময় এসেছে। নার্সিং পেশাকে আমরা এখনো মর্যাদাকর পেশা হিসেবে দাড় করাতে পারিনি। বিভিন্ন অফিস, আদালত ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নার্সরা চরম অবহেলিত। কোন সরকারী অফিসের একজন তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী কিংবা স্বাস্থ্য বিভাগের তৃতীয় শ্রেনীর একজন কর্মচারী যে মান মর্যাদার অধিকারী দ্বিতীয় ও প্রথম শ্রেনীভুক্ত একজন নার্স সে মান মর্যাদা থেকে সবসময়ই বঞ্চিত হয়ে আসছে। এ অবহেলা ও বঞ্চনার মূল কারণ নার্সদের স্বতন্ত্র কোন অর্গানোগ্রাম অধিদপ্তর নেই। যদি থাকতো তা হলে অবশ্যই তারা তাদের কৃতকর্মের জন্য নন্দিত হতেন। এ কারণেই আমাদের এখনই ভাবতে হবে নার্সদের স্বগৌরবে আত্মমর্যাদার আওতায় নিয়ে আসার কথা। তা যদি আমরা করতে না পারি তা হলে আমাদের সাংবিধানিক মৌলিক অপরিহার্য দিক স্বাস্থ্যসেবাকে পরিপূর্ণ করতে পারবে না বলেই মনে হয়।
    লেখক: শহীদুল ইসলাম পাইলট, সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

    :: শেয়ার করুন ::

    Comments

    comments

    সংবাদটি ফেইসবুকে শেয়ার করুন

    দৈনিক রুদ্রবার্তা/শরীয়তপুর/২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/


    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত


    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক রুদ্রবার্তা

  • error: নিউজ কপি করা নিষেধ!!