মঙ্গলবার, ৭ই এপ্রিল, ২০২০ ইং, ২৪শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
আজ মঙ্গলবার | ৭ই এপ্রিল, ২০২০ ইং

সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র শরীয়তপুর

রবিবার, ১৪ জুলাই ২০১৯ | ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ | 522Views

দক্ষিনে আড়িয়াল খা, পশ্চিমে মেঘনা আর উত্তরে পদ্মার পাড় ঘেসে গড়ে উঠেছে এগারোশত বর্গমাইলের প্রশাসনিক অঞ্চল শরীয়তপুর। এ জেলার প্রায় ৩৭ শতাংশই চরাঞ্চল। পদ্মা, মেঘনায় প্রতিনিয়ত ধরা পড়ে সুস্বাদু ইলিশ। চর আর নদীর অপরূপ সৌন্দর্য চোখ জুড়ায় সকলের। এ অঞ্চলের অনেকেই জীবিকা নির্বাহ করে কৃষি কাজ করে। অনেকে জেলে পেশার সাথেও সম্পৃক্ত। এছাড়াও ভেদেরগঞ্জের পাল বাড়িতে তৈরী হয় আকর্ষনীয় মাটির তৈজসপত্র, খেলনা সামগ্রীসহ বিভিন্ন জিনিস। যা দেশের গন্ডি পেরিয়ে রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও। ঘুরে দেখার মত রয়েছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান, নিদর্শন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রায় দু’শ বছরের পুরনো বুড়ির হাট মসজিদ, সাড়ে তিন’শ বছরের পুরনো রুদ্রকর মঠ, পাঁচ’শ বছরের পুরনো মনসা বাড়ি, ঐতিহ্যবাহী মুন্সিবাড়ী, লাকার্তা সিকদার বাড়ী, এশিয়ার সর্ববৃহৎ শিবলিঙ্গ, পুরনো মানসিংহের বাড়ি। গোসাইরহাটের হাটুরিয়া জমিদার বাড়ি। এছাড়াও রয়েছে দৃষ্টি নন্দিত মহিষাড়ের দিঘী ও রামঠাকুরের আশ্রম।
এ সকল প্রতিটি স্থান ঐতিহাসিক, ভৌগলিক নিদর্শন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটন সম্ভাবনাময় করে তুলতে দরকার যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন। চলমান পদ্মা সেতুর বাস্তবায়নে সেই পথ সুগম হতে পারে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় অযতেœ, অবহেলায় দিন দিন ধ্বংসের পথে যাচ্ছে এ নিদর্শন কেন্দ্রগুলো। নতুন প্রজন্মের কাছে ভৌগলিক পরিচিতি, নিদর্শনের জানান দিতেও দরকার এর সংরক্ষন ও সংস্কার। শিক্ষাবিদদের মতে, সরকারী-বেসরকারী ব্যবস্থাপনায়ও এর সংরক্ষন, সংস্কার করা যেতে পারে। এতে করে ভৌগলিক পরিচিতিসহ পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে শরীয়তপুর জেলা। নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে নিজেদের ইতিহাস। তা না হলে অল্প দিনেই নষ্ট হবে এগুলো। স্থানীয়দের বরাদে জানা যায় বিভিন্ন সময়ে বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেয়া হলেও পরে আর কোন কাজ হয়নি। গত সপ্তাহ তিনেক আগে রুদ্রকর মঠ দেখতে গেলে হতাশ হতে হয়। মঠটি জড়াজীর্ণ অবস্থা। স্থানীয়দের দখলে। অথচ স্থানীয় ফজলুল হক সরদারের সাথে কথা বলে জানা যায় মঠের সামনের প্রায় এক একর বিস্তৃত পুকুর ও আশ পাশের বাড়িঘর গুলোও মঠের আওতাধীন। সংস্কার ও সংরক্ষন নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই জানায় একবার ডিসির নেতৃত্বে মঠের উপর জড়াজীর্ণ গাছপালা গুলো কাটা হয়, সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয় কিন্তু পরে তা আর ফলপ্রসূ হয়ে ওঠেনি। তাই শরীয়তপুর বাসীর দাবী শরীয়তপুরের এ সকল নিদর্শন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য সরকারী-বেসরকারী ভাবে সংস্কার ও সংরক্ষনের। এবং শরীয়তপুরকে সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে যাতায়াত ব্যবস্থার মান উন্নয়ন করার আহবান। তবেই সম্ভাবনাময় থেকে পর্যটন কেন্দ্রে পরিনিত হতে সম্ভব হবে।
-হোসাইন মোহাম্মদ মোশাররফ, শিক্ষার্থী: কবি নজরুল সরকারি কলেজ।


-Advertisement-
সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেইসবুক পাতা

-Advertisement-
-Advertisement-
error: Content is protected !!