
লালমনিরহাট শিশু পার্ক সংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মঞ্চে স্থাপিত একটি ম্যুরাল কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন। ম্যুরালটিতে ভাষা আন্দোলন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ, মুজিবনগর সরকার গঠন, চরমপত্র, মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধ, বীরশ্রেষ্ঠদের অবদান এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণসহ মুক্তিযুদ্ধের নানা ধাপ ও তাদের দলিল পত্র তুলে ধরা হয়েছে।বুধবার সকালে সনাকের সদস্যরা শহরের স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে দেখেন, দীর্ঘ ম্যুরালটি কাপড় দিয়ে ঢাকা। বিষয়টি নজরে আসতেই তারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে স্মৃতিসৌধ ত্যাগ করেন এবং পরে রেলওয়ে শহীদ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। সনাকের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল ইসলাম বীরপ্রতীক বলেন, এই ম্যুরাল আমাদের ইতিহাসের ধারাবাহিক দলিল। এটি ঢেকে রাখার ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।সুশাসনের জন্য নাগরিক কমিটির লালমনিরহাট সভাপতি ও স্বসস্ত্র গেরিলা লিডার এস.এম শফিকুল ইসলাম কানু বলেন, বাঙ্গালী জাতির ইতিহাসে এ ঘটনা একটি নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুফী মোহাম্মদ বলেন, ম্যুরালটি যদি সময়ের সঙ্গে বেমানান হয়, তাহলে সংস্কার করা যেতে পারে। তবে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখাটা সার্কাসের মতো আচরণ।লালমনিরহাট সনাকের সহ-সভাপতি সুপেন্দ্র নাথ দত্ত বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান ও ইতিহাস ঢেকে রাখা মানে তাদের আত্মত্যাগকে অস্বীকার করা। এটি স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী।
সাংবাদিক ও সাহিত্যিক কবি হেলাল হোসেন কবির বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার হটিয়ে সেই জায়গায় ফ্যাসিস্ট আমলা দিয়ে দেশ পরিচালনা করা হলে তাদের নিকট থেকে এর চাইতে বেশি কিছু আশা করা বোকামি। আমি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।
জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় ম্যুরালটি ঢেকে রাখা হয়েছে। তবে তিনি এর বাইরে আর কোন কথা বলতে চাননি।