
শরীয়তপুরের ডামুড্যায় জয়ন্তী নদী থেকে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ডামুড্যা উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি কাশেম সরদারের বিরুদ্ধে।
এদিকে স্থানীয় শ্রমিক দল নেতা কাশেম সরদার প্রভাব খাটিয়ে নদীতে খননযন্ত্র ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ইটভাটা সহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। তবে অভিযান পরিচালনা করে নদী থেকে মাটি বন্ধ করার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের তালতলা লঞ্চ টার্মিনালের অপর পাশে জয়ন্তী নদী থেকে রাতের আধাঁরে মাটি কেটে ট্রাক্টরের ট্রলি যোগে ইটভাটা সহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হচ্ছে। নদীর যে অংশে মাটি হয়েছে,সেখানে বিশাল কয়েকটি গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। নদীর পাড়েই ভেকু ও প্রায় ১০ টি মাহিন্দ্র গাড়ী রাখা হয়েছে। রাত হলেই শুরু হয় তাদের কর্মযজ্ঞ, চলে ভোর ৬টা পর্যন্ত। অবৈধভাবে নদী থেকে রাতভর মাটি কেটে আনা নেওয়া করায় ধুলোবালিতে মসজিদ, বাড়িঘর, দোকানপাট ও রাস্তাঘাটসহ আশপাশের জনজীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। যারা মাটি কাটছেন তারা প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টি নিরবে সহ্য করে যাচ্ছেন এলাকাবাসী।
আমিন সরকার নামে এক কৃষক দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, নদী থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছেন কাশেম সরদার । তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারও নাই। নদী থেকে ভেকু দিয়ে অবৈধভাবে মাটি কাটার ফলে আবাদি জমিসহ বাড়িঘর ভাঙনের কবলে পড়বে। আমাদের দাবী প্রশাসন দ্রুত এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা করুক।
নদীর পারের বাসিন্দা তাসলিমা খাতুন সহ একাধিক বাসিন্দা দৈনিক রুদ্রবার্তাকে জানান, আমরা তাদের হাতে-পায়ে ধরেছি। এই নদী থেকে মাটি কাটলে আমাদের বাড়ি-ঘর থাকবে না। তারা শ্রমিকদল সভাপতি কাশেম সরদারের ক্ষমতার বলে রাতভর মাটি কাটছে। অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে নিলে আমাদের আবাদি জমিসহ বাড়ি-ঘর ভাঙনের কবলে পড়বে। আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি আমাদের বাঁচান।
এ বিষয়ে শ্রমিকদল নেতা কাশেম সরদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, নদীর পাড়ে আমাদের জমি আছে তাই মাটি বিক্রি করি। আমি ক্লাবে মিটিংয়ে ব্যস্ত আছি আপনার সাথে পরে যোগাযোগ করবো। প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে নদী থেকে মাটি কাটার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি কালু হাওলাদারের নির্দেশে কাজ করছি। উনি ভালো জানেন প্রশাসনের কোনো অনুমতি আছে কিনা।
এ বিষয়ে ডামুড্যা উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: মাইনউদ্দিন দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, অবৈধভাবে নদী থেকে মাটি কাটার কোনো সুযোগ নেই। অতি দ্রুত অভিযান চালিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।