Thursday 3rd April 2025
Thursday 3rd April 2025

সিজারের ১দিন পর ২ শিশুর মৃত্যু, অব্যস্থাপনার কারনে ২টি হাসপাতাল বন্ধ করেছেন স্বাস্থ্য বিভাগ

সিজারের ১দিন পর ২ শিশুর মৃত্যু, অব্যস্থাপনার কারনে ২টি হাসপাতাল বন্ধ করেছেন স্বাস্থ্য বিভাগ
সিজারের ১দিন পর ২ শিশুর মৃত্যু, অব্যস্থাপনার কারনে ২টি হাসপাতাল বন্ধ করেছেন স্বাস্থ্য বিভাগ

শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় চিকিৎসার অবহেলায় ২নবজাতকের মৃত্যু ও হাসপতালের অব্যস্থাপনার অভিযোগে ২’টি বেসরকারি হাসপাতাল বন্ধ করা হয়েছে।

সিজারের পর মা ও শিশু সুস্থ থাকলেও একদিন পর শিশু চিকিৎসকের অভাবে ও হাসপাতালে শিশু চিকিৎসার অব্যবস্থাপনার কারণে শীর্ষ দুটি মারা গিয়েছে বলে জানা গেছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতাল দুটি বন্ধের কথা জানান শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন আবদুল হাদী মো. শাহ পরান।

বন্ধ করে দেওয়া হাসপাতাল ২’টি হলো গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন ঢালী ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতাল এবং গরীবে নেওয়াজ হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিক।

নিহত নবজাতকের স্বজনরা জানান, গত সোমবার উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান আজাদের স্ত্রী নাদিয়া বেগম প্রসব বেদনা নিয়ে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি হন। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেয় নবজাতক, মা সুস্থ থাকলেও হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় শিশুর চিকিৎসা দিতে পরেনি।

স্বজনদের অভিযোগ, নবজাতকের শ্বাসকষ্টের চিকিৎসা করেন হাসপাতালটির নার্স ও  শিশু চিকিৎসক। চিকিৎসা করতে গিয়ে তারা ৩০ মিনিটের বেশি সময় ধরে নবজাতকের বুকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন।

অতিরিক্ত চাপে অবস্থা খারাপ হলে তড়িঘড়ি করে নবজাতকটিকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন তারা। কিন্তু পথেই শিশুটির মৃত্যু হয়।

চিকিৎসার অবহেলায় নাতি মারা যায় বলে অভিযোগ করে নবজাতকের নানা মো. আবু তাহের , “এর আগে আমার এক আত্মীয়ের নবজাতক ভুল চিকিৎসায় এই হাসপাতালে মারা গিয়েছিল। ডিগ্রিবিহীন শিশু চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসার অব্যবস্থাপনার করলে নবজাতক তো মারা যাবেই। টাকার জন্য ওরা এভাবে মানুষকে মেরে ফেলে। আমার নাতি মারা গেছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।”

শিশুটির বাবা হাবিবুর রহমান আজাদ বলেন, “আমার সন্তান সিজারের পরও ভালো ছিল। কান্নার শব্দ আমরা শুনেছি। তারা আমার সন্তানকে আমার কাছে না দিয়ে বুকের মধ্যে অনবরত চাপ দিতে থাকে। আধা ঘণ্টা চেপে জখম করে বলে, আমরা এখানে কিছু করতে পারব না। আপনারা ওকে আইসিইউতে নিয়ে যান।

“এরপর আমার সন্তানকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়। আমি এর বিচার চাই।”

এর আগের দিন রোববার একই হাসপাতালের গোসাইরহাট ইউনিয়নের খাট্টা গ্রামের আল আমিন মাঝির স্ত্রী রেখা আক্তারের সিজারের পর সদ্য নবজাতক মারা যাওয়ার অভিযোগ পান সিভিল সার্জন আবুল হাদী মো. শাহ পরাণ।

অপরদিকে, গরীবে নেওয়াজ হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, চিকিৎসা কেন্দ্রটিতে মানসম্পন্ন কোনো চিকিৎসক নেই এবং স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই তারা প্রতিষ্ঠানটি চালাচ্ছিল।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার হাসপাতাল দুটি সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

সিভিল সার্জন আবুল হাদী মো. শাহ পরাণ আরও জানান, শিশু মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে পরিদর্শন করে হাসপাতাল অব্যস্থাপনার বিষটি নজরে আসে। এসব অনিয়মের করনে দুটি হাসপাতাল বন্ধের পাশাপাশি তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

তবে সাময়িকভাবে বন্ধ করার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি হাসপাতাল দুটির কর্তৃপক্ষ।