
ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানির মালিকানাধীন আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের পূর্ণ সরবরাহ চেয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে অবস্থিত ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগে শুধু অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। তবে এখন বাংলাদেশ সরকার পূর্ণ সরবরাহ পুনরায় চালু করতে বলেছে। বাংলাদেশের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
২০১৭ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার আদানি পাওয়ারের সঙ্গে ২৫ বছরের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। দুই বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে, যা একচেটিয়াভাবে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। তবে অর্থপ্রদানে জটিলতা এবং শীত মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকায় গত তিন মাস ধরে অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল।
২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর আদানি পাওয়ার বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়ে আনে। এর ফলে প্ল্যান্টের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায় এবং উৎপাদন ক্ষমতা ৪২ শতাংশে নেমে আসে। পরে বাংলাদেশ সরকার অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে বলে। তবে এখন পূর্ণ সরবরাহ চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বিপিডিবি) জানিয়েছে, তারা আদানিকে প্রতি মাসে ৮ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করছে এবং দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় শুরু করতে বলেছে। বিপিডিবির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম রয়টার্সকে বলেন, “আমাদের চাহিদা অনুযায়ী, তারা দ্বিতীয় ইউনিটটি চালু করার পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু উচ্চ কম্পনের কারণে তা সম্ভব হয়নি। কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ইউনিটটি এখনও চালু করা যায়নি।”
তিনি আরও জানান, “আমরা প্রতি মাসে ৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার পরিশোধ করছি এবং আরও বেশি অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমাদের লক্ষ্য বকেয়া পরিশোধ কমিয়ে আনা। আদানির সঙ্গে এখন আমাদের বড় কোনো সমস্যা নেই।”
এদিকে, গোপনীয়তা বজায় রাখতে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি এক বৈঠকের পর মঙ্গলবার বিপিডিবি ও আদানি পাওয়ারের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আদানি পাওয়ারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে গত ডিসেম্বরে আদানির এক সূত্র জানিয়েছিল, বিপিডিবির কাছে তাদের প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া রয়েছে। বিপিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম অবশ্য বলেছেন, বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন ডলার।