
বাংলাদেশে গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে সরকারী দমন-পীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) তথ্যানুসন্ধান দল একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটি গত বুধবার প্রকাশিত হয় এবং এর পরপরই আন্তর্জাতিক মিডিয়া, যেমন বিবিসি, সিএনএন, রয়টার্স, আল-জাজিরা প্রভৃতি সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচনা চলছে।
বিবিসি ও সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর বাংলাদেশের ছাত্র নেতৃত্বাধীন আন্দোলন দমনে সরকারী বাহিনীর সহিংসতা মানবতাবিরোধী অপরাধ হতে পারে। জাতিসংঘের তদন্তে উঠে এসেছে, এই আন্দোলনে কমপক্ষে ১,৪০০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগের মৃত্যু নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ঘটে। সিএনএন আরো জানিয়েছে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি ক্রমবর্ধমানভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনে যুক্ত ছিল, যা তদন্তের দাবি রাখে।
এছাড়া, নিউইয়র্ক টাইমস ও রয়টার্সও জাতিসংঘের প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশে আন্দোলন দমন করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদনে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার ভলকার তুর্কের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে তিনি বলেন, সরকার আন্দোলন দমনে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটিয়েছে।
আল-জাজিরা ও এপি-ও একই ঘটনা তুলে ধরেছে, এবং জানিয়েছে যে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতা ধরে রাখতে এই সহিংস দমন অভিযান পরিচালনা করেছিল, যাতে বহু নিরীহ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।