
শরীয়তপুরে নড়িয়ার বেদে পল্লীর সাপুরে আসমাউল সরদারের মেয়ে মেধাবী ছাত্রী রূপসি দরিদ্রতার কারণে যখন পড়াশুনা ছেড়েই দেবে তখন পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা ইয়াসমিন। রূপসি আক্তারের একাদশ শ্রেণিতে বিনামূল্যে ভর্তি, বই পুস্তক প্রদান, খন্ডকালীন অনুদান ও মাসিক বৃত্তির ব্যবস্থা করেছেন তিনি।
রূপসি এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় নড়িয়া লোনসিং উচ্চ বিদ্যালয়ে বানিজ্য বিভাগ থেকে ৩ দশমিক ৩৯ পাওয়ার পরও দারিদ্রের কষাঘাতে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া নিয়ে যখন অনিশ্চয়তায় ভুগছিলেন। তখন নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাশে দাঁড়িয়েছেন।
দারিদ্র পরিবারের মেয়েটির পড়াশোনার দায়িত্ব নেয়ায় ইউএনও’র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন রূপসির বাবা-মা। আবেগ আপ্লুত হয়ে রূপসির মা রূপালী বেগম বলেন, ইউএনও সানজিদা ইয়াসমিন মেয়ের পড়াশোনার খরচ বহন নিজ হাতে না নিলে আমাদের পক্ষে সম্ভব হতো না মেয়েটিকে পড়ানোর।
ইউএনও সানজিদা ইয়াসমিনের ফেসবুক আইডিতে রূপসিকে নিয়ে একটি পোষ্ট দেখে আমাদের প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে যায়।
নড়িয়া উপজেলার ভূমখাড়া ইউনিয়নের চাকধ দিঘির পাড় জামে মসজিদ সংলগ্ন নড়িয়া-চাকধ সড়কের পাশে ছোট একটি দো-চালা ভাসমান টিনের ঘরে বসবাস রূপসির পরিবারের। প্রতিনিধির সাথে কথা হয় রূপসির মা রূপালি বেগমের সাথে তিনি জানান, তাদের বাড়ি ছিল বিক্রমপুরে। যতটুকু জমি ছিল পদ্মা নদী কেরে নিয়েছে।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ২৫ বছর আগে শরীয়তপুর নড়িয়া-চাকধ সড়কের পাশে সরকারি জমিতে তাদের বসবাস।
রূপসির বাবা বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সাপ খেলা দেখায়। বেদে পরিবারের মেয়ে রূপসী আক্তার। মা, ছোট বোন, এক ভাই আর দাদা দাদীর সাথে রূপসী রাস্তার পাশে ভাসমান টিনের ঘরে বসবাস করে। বাবা সাপুরে, সাপ ধরে যে অর্থ পায় তা দিয়ে কোন রকমের চলে তাদের সংসার।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা ইয়াসমিন বলেন, অবহেলিত ও দারিদ্রদের বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা করতে গিয়ে পরিচয় হয় রূপসির পরিবারের সাথে। যানতে পারি বেদে পল্লীর শাপুড়ির মেয়ে হয়ে লোনসিং উচ্চ বিদ্যালয় পড়ছে। দারিদ্রতার কারণে এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপ করতে পারছেন না। তখন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে পরামর্শ করে রূপসির ফরম ফিলাপ করিয়ে দেই এবং এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার জন্য বলি। শুনেছি রূপসি এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করেছে। আমি খুব খুসি হয়েছি। একটি মেধাবী মেয়ে শুধুমাত্র অর্থের অভাবে তার মেধাকে বিকশিত করতে পারবে না এটা মেনে নেয়া যায় না। রূপসি একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য নড়িয়া সরকারি কলেজে এপ্লাই করেছে। আমি রূপসির পড়াশোনার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করবো। তিনি জানান, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে আমি আছে, সব সময় থাকবো।
নড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক বলেন, শুধুমাত্র আর্থিক বা শিক্ষা ক্ষেত্রে সহায়তা নয়, রূপসির পাঠদানের ব্যাপারেও বিশেষ নজর দেয়া হবে। শুধু তাই নয়, কলেজে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যাপারে বিশেষ নজর রাখা হয়। রূপসি সাপুরের মেয়ে হয়েও পড়াশোনা করছে, ওর জন্য আমার দোয়া রইল।