
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় ডাকাতির মামলায় নড়িয়া পৌরসভার মেয়র বাবু রাড়ির ছোট ভাই সহ ২ জনকে আটক করেছে নড়িয়া থানা পুলিশ। শুক্রবার নড়িয়ার লোনসিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলো নড়িয়া পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম বাবু রাঢ়ির ছোট ভাই রাসেল রাঢ়ি ও তার সহযোগী সাখাওয়াত হোসেন দেওয়ান।
আসামীরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। আসামীদের দেয়া তথ্য মতে ডাকাতি হওয়া বেশ কিছু মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
জানাযায়, নড়িয়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের লোনসিং গ্রামের লাভলু চৌকিদার বাড়িতে ২৩ মে রাতের ৫/৬ জনের একটি দুধর্ষ ডাকাত দল ডাকাতি করতে যায়। ঐদিন বাড়ির মালিক লাভলু চৌকিদার ঢাকায় ছিলেন। এ সময় ডাকাত দল ঘরের কেচি গেটের তালা ও দরজা ভেঙ্গে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে ঘরের ঘরের ভিতরে সবাইকে জিম্মি করে প্রায় ২ ঘন্টাব্যাপী ডাকাতি করে। ডাকাতরা আলমারী ও স্যুকেস ভেঙ্গে ৪২ ভরি স্বর্নালংকার নগদ ১ লাখ টাকা ও ৯টি মোবাইল সেট নিয়ে যায়। ডাকাতেদের ২ জনের মুখ গামছা দিয়ে বাধা ও দুজনের মুখে মার্কস পরনে ছিল। এ সময় লাভলু চৌকিদারের স্ত্রী রেখা বেগম এর চিৎকার শুনে আশে পাশের লোকজন আসলে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে বাড়ি এসে লাভলু চৌকিদার বাদী হয়ে অজ্ঞাত লোকজনদের আসামী করে নড়িয়া থানায় একটি মামলার দায়ের করে।
মামলার সূত্র ধরে নড়িয়া থানার পুলিশ সন্দেহাতীত ভাবে নড়িয়া পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম বাবু রাঢ়ির ভাই রাসেল রাঢ়ি ও তার সহযোগী সাখাওয়াত হোসেন দেওয়ান কে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশের কাছে ডাকাতির কথা স্বীকার করে। তাদের স্বীকারোক্তি মতে ডাকাতির সময় খোয়া যাওয়া মালামালের মধ্যে শুক্রবার দুপুরে ডাকাত সাখাওয়াত এর বাড়ি থেকে ১টি স্বর্নের চেইন ও নগদ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ ।
এদিকে মেয়রের ভাই ডাকাতির ঘটনায় জড়িত জেনে এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার বাদী লাভলু চৌকিদার বলেন, ঘটনার সময় আমি ঢাকায় ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি এসে ডাকাতির ঘটনা শুনে আমি নড়িয়া থানায় অজ্ঞাত আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ সন্দেহ করে মেয়রের ভাই রাসেল ও সাখাওয়াতকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তাতে দুজনেই ডাকাতির কথা স্বীকার করেছে। ডাকাতের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী কিছু মালামাল উদ্ধার করেছে।
এ ব্যাপারে নড়িয়া পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম বাবু রাঢ়ি বলেন, ডাকাতির ঘটনায় আমার ভাই কেন যেই জড়িত থাকুক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হোক। অপরাধীর কোন ছাড় নেই।
নড়িয়া থানার ওসি মোঃ আসলাম উদ্দিন বলেন, মধ্য লোনসিন গ্রামের লাভলু চৌকিদারের বাড়িতে তালা ভেঙ্গে ডাকাতি করে। এ ঘটনায় মামলা রুজু হওয়ার পর দুইজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে ডাকাতির কথা স্বীকার করে। ডাকাতের স্বীকারোক্তি মতে সাখাওয়াত দেওয়ানের বাড়ি থেকে কিছু মালামাল ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শরীয়তপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সভা কক্ষে জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন জেলার কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেছেন।
এসপি প্রেস ব্রিফিং এ বলেন, গত ২৩ মে মধ্যরাতে নড়িয়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের মধ্য লোনসিং গ্রামের মো. সিদ্দিকুর আমিন (লাভলু চৌকিদার) বাড়িতে ৭ থেকে ৮ জনের একটি ডাকাত দল ডাকাতি করতে যায়। ওইদিন বাড়ির মালিক লাভলু চৌকিদার ঢাকায় ছিলেন। তার মা, স্ত্রী ও মেয়ে বাড়িতে ছিল। এ সময় ডাকাত দল ঘরের কেচি গেইটের তালা ও দরজা ভেঙ্গে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে দেশীয় অস্ত্রের মুখে ঘরের ভিতরে সবাইকে জিম্মি করে প্রায় ২ ঘন্টাব্যাপী ডাকাতি করে। তখন ডাকাতরা আলমারী, স্যুকেস ও ওয়াড্রোপ ভেঙ্গে ৪৩ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও ৯টি মোবাইল সেট নিয়ে যায়। এ সময় লাভলু চৌকিদারের স্ত্রী রেখা বেগম চিৎকার করলে, চিৎকার শুনে আশে পাশের লোকজন ছুটে আসলে ডাকাতরা ডাকাতি করে পালিয়ে যায়।
প্রেস ব্রিফিং এ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. আল মামুন সিকদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) আব্দুল হান্নান, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর) তানভীর হায়দার শাওন, নড়িয়া থানার ওসি মো. আসলাম উদ্দিন, ডিআইও-২ মো. আজহারুল ইসলাম, নড়িয়া থানার তদন্ত ওসি আবু বকর প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
[facebook_likebox case_type=”like_button” fbl_id=”10″][/facebook_likebox]