Friday 1st March 2024
Friday 1st March 2024

Notice: Undefined index: top-menu-onoff-sm in /home/hongkarc/rudrabarta.net/wp-content/themes/newsuncode/lib/part/top-part.php on line 67

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের বানী

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের বানী

আজ পহেলা বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ। শুভ নববর্ষ। বাংলা নববর্ষের এই আনন্দঘন দিনে আমি শরীয়তপুরবাসীসহ সকল বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। ফেলে আসা বছরের সব তমসা দূর হয়ে অনাবিল আলোর ঝর্ণায় স্নাত হবে আমাদের সকলের জীবন-এ প্রত্যাশা করি।
এক সময় নববর্ষ পালিত হতো আর্তব উৎসব বা ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে। তখন এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল কৃষির, কারণ কৃষিকাজ ছিল ঋতু নির্ভর। এই কৃষিকাজের সুবিধার্থেই মুগল সম্রাট আকবর ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ বা ১১ মার্চ বাংলা সন প্রবর্তন করেন। হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌরসনকে ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়। নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়। ফসলি সন হিসেবে মুগল আমলে যে বর্ষ গণনার সূচনা হয়েছিল, আজ তাই আমাদের নতুন বছরের প্রথম দিন যা সর্বজনীন জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। সাল গণনার সীমা ছাড়িয়ে এ উৎসব পরিণত হয়েছে আমাদের জাতিসত্তা আবিষ্কারের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে।
বাংলা নববর্ষ চিরায়ত বাংলার ঐতিহ্যে লালিত এক অনন্য দিন। দিনটি সবাইকে প্রবলভাবে আপ্লুত করে এবং পুরাতনকে পেছনে ফেলে সামনে চলার অফুরন্ত প্রেরণা যোগায়। পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে বাংলার লোকজ-সংস্কৃতির মূল্যবান অনুষঙ্গ যেমন-যাত্রাগান, পালাগান, পুতুলনাচ, হালখাতা, অঞ্চলভিত্তিক লোকসংগীত, খেলাধুলাসহ গ্রামীণ মেলা যেমন প্রাণ ফিরে পায়, তেমনি বাংলার ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প হয়ে ওঠে উজ্জীবিত। ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর ইতিবাচক প্রভাব তাৎপর্যপূর্ণ। বাঙালির জীবনে বাংলা নববর্ষের আবেদন তাই চিরন্তন ও সর্বজনীন। আমাদের বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃত। পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা ২০১৬ সালে জাতিসংঘের ইউনেস্কো কর্তৃক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে, যা বিশ্বের বুকে বাঙালি হিসেবে আমাদের মর্যাদাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, শরীয়তপুর কর্তৃক ০৩ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কৃষ্টি ও সংস্কৃতির চমকপ্রদ ও জমজমাট আয়োজন এর মাধ্যমে ও সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে বৈশাখী উৎসবের অনুষ্ঠানমালা এখানকার মানুষের প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা সম্প্রসারিত করবে বলে আমি মনে করি। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের কাছে আনন্দ-উদ্দীপনার মাধ্যমে পৌঁছে যাবে চিরায়ত বাঙালি মানসের সমৃদ্ধ ও কল্যাণকর বার্তা।
বাংলা নববর্ষের চেতনা অব্যাহত রেখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ‘স্বপ্নের সোনার বাংলা’ গড়তে দিনটি আমাদের জাতীয় জীবনে প্রেরণা এবং শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। অতীতের গ্লানি, দুঃখ, জরা মুছে, অসুন্দর ও অশুভ পেছনে ফেলে নতুন কেতন উড়িয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ জাতীয় জীবনে বহুমাত্রিক সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক-এ আশাবাদ ব্যক্ত করি। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

(কাজী আবু তাহের)

জেলা প্রশাসক,শরীয়তপুর