
পহেলা বৈশাখ
সব্যসাচী নজরুল
ওরে ওই নতুনের কেতন ওড়ে, বৈশাখেরই আগমনী গান
ঝাঁঝর কাঁসর সাঁক আর ঢাক ঢোলকে জুড়ায় সবার প্রাণ।
¬¬¬
বেলা অবেলায় রোদে-মেঘে আলো আঁধারের খেলা
দেশের সারা বাটে, রমনা বটমূলে মনকাড়ে বৈশাখী মেলা।
আহা! বৈশাখেতে হারে রে রে তাই রে নাই রে নাই,
বাঙালিরা নববর্ষে মাতি বাসন-খোরায় পান্তা ইলিশ খাই।
বাংলার ফুল- ফল, আকাশ-মাটি, জল-সমুদ্র- হাওয়া,
মিলেমিশে একাকার সবে আনন্দ¯্রােতে হারিয়ে যাওয়া।
পহেলা বৈশাখে নব-দিনে মুড়ি মুড়কি মন্ডা মিঠাই খাওয়া
এ যেন বাঁধন হারার আকাশ পানে পঙ্খী হতে চাওয়া।
শোনরে সোনার ছেলে সোনার মেয়ে আয়রে ছুটে আয়,
সবাই দলবেঁধে চল যাই বৈশাখী মেলায় বেলা বয়ে যায়।
প্রতিটি পহেলা বৈশাখে মোদের এইনা সোনার বাংলাদেশে
মধু ক্ষণে হাসি-খুশির বিস্ফোরণে নববর্ষ আসে পঙ্খীরাজে ভেসে।
দেশবাসী নব-বসনে হালখাতায় রংআবিরে বেনীআসহকলায় ভাসে,
নৃত্য-ছন্দ, মঞ্চনাটক, পুঁথিগীতি, গানের আসর মঞ্চে মঞ্চে হাসে।
পহেলা বৈশাখে ফুল স্পর্শে হয় কপোত-কপোতীর প্রেম লেনদেন,
কবিতায় চিরভাস্বর মধু-রবি-নজরুল, জীবনানন্দের বনলতা সেন।
আমি নুসরাত বলছি
সব্যসাচী নজরুল
শোন, আমি নুসরাত বলছি,আমি সোনাগাজীর মেয়ে
সমাজকে কিছু দিতে চেয়েছিলাম, হাফেজা হয়ে।
আচ্ছা, আমিতো তথাকথিত মর্ডান ছিলাম না
বেআব্রু-সর্ট, টাইটফিট পোশাক পড়িনিরে মা!
কোরান-কিতাব পড়েছি, নিজেকে রেখেছি সুরক্ষিত
সেই আমিও ঐ পশুদের লালসার স্বীকারে ক্ষতবিক্ষত।
ওরা কেড়ে নিল আমারে, মা-বাবা এ ব্যথা কেমনে সয়
নষ্টভ্রষ্ট এ সমাজে খোলসাবৃত মুক্তাও আজ নিরাপদ নয়?
ছি ধিক্ তোদের কপালে, তোদের সমাজের কপালে
যদি জেনে যেতে পারতাম, নষ্ট তোদেরকে কে পালে?
আমার কোন পাপ ছিলনা, ঝলসে দিল আমায় কেন তবে!
বোনরা তোরা সতর্ক হ, নইলে তোদেরকেও ঝলসানো হবে।
আগুনে পুড়ে, পোঁড়া মাংসের গন্ধ শুঁকে চললাম না ফেরায়
আমার মৃত্যু, আমার চলে যাওয়া নষ্টভ্রষ্ট এ সমাজের দায়।